
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ আগুনে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের মরদেহ শনিবার (২২ আগস্ট) দেশে ফিরছে। এর মধ্যে একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর এবং অপর পাঁচজনের মরদেহ যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে।
শনিবার সকালে কলকাতার পার্ক সার্কাসের পিস ওয়ার্ল্ড হিমঘর থেকে সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সকাল ৬টার পর অ্যাম্বুলেন্সটি কলকাতা ছাড়ে। সকাল ১০টার দিকে মরদেহটি ভোমরা স্থলসীমান্তে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, বাকি পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলোও স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে পিস ওয়ার্ল্ড হিমঘর থেকে বাংলাদেশের পথে রওনা হওয়ার কথা। সড়কপথে বেনাপোল স্থলসীমান্ত দিয়ে এসব মরদেহ দেশে আনা হবে।
দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে কুষ্টিয়ার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, তার শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের আহামেদ বাবুর মরদেহ।
এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতার নিমতলা শ্মশানে সাতক্ষীরার বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহের সৎকার সম্পন্ন হয়েছে। ফলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে ফিরছে, আর একজনের শেষকৃত্য কলকাতাতেই করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে সাত বাংলাদেশিসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহত অপর দুজন ভারতীয় নাগরিক হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান এবং শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগরওয়াল।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি কলকাতা পুলিশ। তাকে আটক করতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও তল্লাশি চালানো হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরদিন থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ধর্মতলা, মার্কুইস স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট ও এসএন ব্যানার্জি রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে আবাসিক হোটেল, লজ ও অতিথিশালাসহ প্রায় ৫০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।