
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে যেসব দেশ অংশ নেবে, তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সব দেশকে আমরা সতর্ক করছি—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, তাতে যোগ দেবেন না। কোনো দেশ আমাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে অংশ নিলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’
মোহসেন রেজাইয়ের এ বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে কোনো মিত্র বা অন্য দেশ সহযোগিতা করলে তেহরান তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
এর আগে ইরানের ওপর হামলা হলে তার জবাব আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছিলেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনছে ইরান। এতদিন দেশটির সামরিক নীতির মূল ভিত্তি ছিল ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অবস্থান। তবে এখন ধীরে ধীরে সেটি ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশলের দিকে এগোচ্ছে।
তবে আকরামিনিয়া স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ শত্রুর বিরুদ্ধে আগাম হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর কোনো আগ্রাসন হলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে এর জবাব দেব এবং সেই জবাব হামলার চেয়েও বড় পরিসরে হবে।’
ইরানের এই বক্তব্যে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সামরিক হামলার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।