
নেপাল-চীন সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তার জন্য ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর আগ্রহ দেখালেও তা গ্রহণ করছে না নেপাল। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সক্ষম।
২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাঠমান্ডু পোস্ট।
কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পরিবর্তে বিভিন্ন দেশের কাছে নগদ অর্থ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সহযোগিতা চাওয়া হবে।
ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ নেপালের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। আরও কয়েকটি দেশ অনুসন্ধান, উদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহযোগিতার আগ্রহ জানিয়েছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের বন্যার পর দেশটিতে ১৭৮ জন ভারতীয়, ৬৫ জন মার্কিন নাগরিক, ৫১ জন মালয়েশীয়, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ, ৩৫ জন অস্ট্রেলীয় ও ২৫ জন কানাডীয় নাগরিকসহ আরও প্রায় তিন ডজন দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। চীনা কর্মকর্তাদের হিসাবে, নেপালে অন্তত ১০০ জন চীনা নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যায় আটকে পড়া দুই শতাধিক ভারতীয় নাগরিক দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা একাধিকবার আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল নেপালে পাঠানোর অনুমতি চেয়েছে। তবে সরকার তাদের জানিয়েছে, নেপালের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যথেষ্ট সক্ষম।
তিনি জানান, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশ নেপালে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর অনুমতি চেয়েছে। কিন্তু ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের সময়ের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় এবার বিদেশি দল না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল নেপালে এসেছিল। তখন দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। এমনকি উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছিল।
নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশের সুপারিশের ভিত্তিতেই এবার বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।