
ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের দুর্গম এলাকাগুলোতে প্রায় এক সপ্তাহ পর পৌঁছাতে শুরু করেছেন উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া প্রায় ৩০০ শ্রমিককে উদ্ধারে হিমালয় অঞ্চলে অভিযান চালানোর পাশাপাশি যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে অস্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজও চলছে। খবর রয়টার্সের।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র এখন উদ্ধার তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এসব এলাকায় এখনো প্রায় ৬০০ মানুষ আটকে রয়েছেন। তবে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাও পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, পরিবার, প্রিয়জন ও সম্পদ হারিয়েছেন। তারা যে গভীর কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সরকার তা উপলব্ধি করছে। সামনে আমাদের লক্ষ্য হলো এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা।'
তিনি জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর অন্যতম নুওয়াকোটে সড়ক যোগাযোগ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এতে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো তুলনামূলক সহজ হয়েছে।
চীন সীমান্তসংলগ্ন নেপালের দুর্গম এলাকায় হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও কাদামাটি নেমে এসে এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়। পরে দেশটির বিভিন্ন শহর ও উপত্যকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় পানির স্রোত। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে এমন ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলা করা নেপাল সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বিপিন রেগমি জানান, নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতী গ্রামের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধারকারী দল ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছে।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, 'আমরা নতুন নতুন এলাকায় পৌঁছাচ্ছি এবং মরদেহ উদ্ধার করছি।'
এদিকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী শাহ জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর দেশটিতে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছেছে। আগামী দিনগুলোতে এই সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালের দুই প্রতিবেশী ভারত ও চীনও সহায়তা করছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারীদের পৌঁছাতে এবং যোগাযোগব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে তারা অস্থায়ী ‘বেইলি ব্রিজ’ নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছে।