
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের দুটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এক দিনের মাথায় ইরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা থেকে এই অভিযান শুরু হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী দুপুর ১২টা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সামরিক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাসহ মধ্যপ্রাচ্যে আইআরজিসির সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সামরিক কর্মকাণ্ডের জবাব হিসেবেই ওয়াশিংটন এই পাল্টা অভিযান চালিয়েছে।
এর আগে সোমবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের দুটি বড় তেলবাহী সুপারট্যাংকারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। জাহাজ দুটিতে সব মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছিল। এর এক দিন আগে, রোববার, জর্ডানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে আইআরজিসি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই প্রতিহত করা সম্ভব হয়।
এরও আগে, শনিবার রাতে হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে আইআরজিসির একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনা ধ্বংস করে মার্কিন বাহিনী। ওই হামলার মধ্য দিয়েই এক মাসের বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সর্বাত্মক যুদ্ধের পরিবর্তে ‘সীমিত মাত্রার’ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ‘তারা নৌবাহিনী হারিয়েছে, বিমানবাহিনী হারিয়েছে। তাদের নজরদারি উপাদানও প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তার মানে এই নয় যে আমরা তাদের আঘাত করব না। তবে এবার আমাদের পদক্ষেপ হবে খুবই সীমিত।’