
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে এখনো শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার কারণে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু করা কঠিন হয়ে উঠেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলে আয়োজিত একটি অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন পুতিন।
রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ কয়েকটি দেশ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পাদনে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান শেষ পর্যন্ত মস্কো ও কিয়েভকেই খুঁজে বের করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুতিন বলেন, ‘শান্তির সম্ভাবনা আছে কি? আমার মতে, হ্যাঁ, অবশ্যই আছে।’
তবে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পথে বাধা তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে ইউক্রেনের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং বেসামরিক উড়োজাহাজে হামলার হুমকির কথা উল্লেখ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। এসব কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, ‘রাশিয়ার আকাশসীমায় ইউক্রেনীয় ড্রোনের উপস্থিতির কারণে ওই অঞ্চলে উড়োজাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’
তবে জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য থাকবে কেবল রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা; বেসামরিক উড়োজাহাজকে তারা কোনো হুমকি দেবে না।
এর আগে বুধবার ইউক্রেন জাতিসংঘের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার কাছে রাশিয়ার আকাশসীমায় বিমান চলাচল বন্ধের বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানোর অনুরোধ জানায়।
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ইউক্রেনের নিজস্ব আকাশসীমাতেও আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে।