
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চাপে থাকা অর্থনীতি সামাল দিতে সংস্কার ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর নতুন করে হামলা হলে এর জবাব হবে আরও দ্রুত, কঠোর ও বেদনাদায়ক।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাতের কয়েক মাস পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। জুনে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগেও তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি।
শনিবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দুই মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়।
পরদিন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে—‘খেলার নিয়ম বদলে গেছে’।
এদিকে হরমুজ প্রণালির বাইরে একটি নতুন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল ঘোষণার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। নতুন ওই এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজগুলোকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
যুদ্ধের পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও তেল রপ্তানিতে বাধার কারণে ইরানের অর্থনীতিও চাপে পড়েছে। মুদ্রার অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও বাজার ব্যবস্থাপনার সংকটকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ বলেন, মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারে যাবে। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তার নীতিগত অবস্থান বদলাবে—এমন ধারণা নাকচ করে তিনি বলেন, অর্থনীতি সংস্কারের দায়িত্ব ইরানের সরকার ও জনগণের, যুক্তরাষ্ট্রের নয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মোর্তেজা জামানিয়ান জানান, যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় মন্ত্রণালয়ের ‘ইকোনমিক ওয়ার হেডকোয়ার্টার’ আরও জোরালোভাবে কাজ করছে।
সূত্র: রয়টার্স