
চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২০ জন।
লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে নাবাতিয়েহ, আরব সালিম, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা ও কাফর রেমান এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়।
আরব সালিমে একটি ভবন খালি করার নির্দেশ দেওয়ার পর সেখানে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে দুই নারী নিহত ও ছয়জন আহত হন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকায় পৃথক হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন।
নাবাতিয়েহ শহরেও হামলা চালানো হয়। এতে লেবাননের এক সংসদ সদস্যের ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি ঐতিহাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশপাশের কয়েকটি ভবনও। কাফর রেমানে হামলায় শহরটির প্রয়াত সাবেক মেয়রের বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নাবাতিয়েহ শহরের সাইয়্যিদা মাসুমা গার্ডেনেও হামলা চালানো হয়। আগের দিন ক্ষতিগ্রস্ত পৌর পার্কটির অবশিষ্ট অংশও এতে ধ্বংস হয়ে যায়।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ দুটি ড্রোন পাঠানোর জবাবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইল ঘটনাটিকে যুদ্ধবিরতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
লেবাননের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত মার্চে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে হামলা চালানোর পর থেকে দেশটিতে ইসরাইলি বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে ৪ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ইসরাইলি বাহিনী এখনো লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর একটি স্বঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এ অবস্থান করছে।
গত জুনে বৃহত্তর সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার পর হামলার মাত্রা কিছুটা কমে এলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।