
হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।
একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে আরও ১০টি ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে’ লক্ষ্যবস্তু করার দাবিও করেছে আইআরজিসি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি এসব দাবি করে। বিবৃতিতে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আইআরজিসি বলেছে, ‘মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর আগ্রাসন ও শত্রুতার’ জবাব দিতেই তারা এসব হামলা চালিয়েছে।
ইরানি বাহিনী আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে ১০টি ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ‘উসকানি ও সহযোগিতায়’ হরমুজ প্রণালির ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ অঞ্চল’ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করেছে আইআরজিসি।
আইআরজিসির দাবি, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের ‘কঠোর ও কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের’ মধ্যে রয়েছে। বিবৃতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় জাহাজ দুটিতে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত দুই দিনে আইআরজিসি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার হামলার চেষ্টা করেছিল। তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ‘সফলভাবে ইরানের হামলা এড়িয়ে যায়’ বলে দাবি করেছে সেন্টকম।
এক বিবৃতিতে মার্কিন কমান্ড জানিয়েছে, এসব ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা বা কর্মী আহত হননি।
এরপর পাল্টা জবাবে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে সেন্টকম। মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, হামলার শিকার ট্যাংকারগুলোর মধ্যে রয়েছে এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ এবং এম/টি রিয়েস্কো। এসব জাহাজ ওমান উপসাগরে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছে তারা।
এ ছাড়া খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি দেরিয়া নামের আরেকটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম।
মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, হামলার আগে ট্যাংকারগুলোর কর্মীদের জাহাজ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়।
তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে করা এসব দাবির স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিক যাচাই করা সম্ভব হয়নি।