
গত ২ সেপ্টেম্বর নর্থ ক্যারোলিনার চ্যাপেল হিলে জি-২০ ইনোভেশন মিনিস্টেরিয়াল বৈঠকের বাইরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিরুদ্ধে আয়োজিত এক বিক্ষোভে আন্দোলনকারীরা প্ল্যাকার্ড বহন করেন। ছবি: সিএনএন থেকে সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যদি মানুষের নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাকে অতিক্রম করে যায় এবং অদূর ভবিষ্যতে তা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে—এমন সতর্কবার্তা এখন আর শুধু প্রযুক্তিবিদদের কাছ থেকে আসছে না।
বরং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও গবেষকেরাই একের পর এক এ প্রযুক্তির লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু তাদের এই উদ্বেগের বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত অনেকটাই নির্লিপ্ত।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি যদি মানুষের নিয়ন্ত্রণের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তা শুধু কর্মসংস্থান বা অর্থনীতিতেই নয়, জাতীয় নিরাপত্তা এবং শেষ পর্যন্ত মানবসভ্যতার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, যুক্তরাষ্ট্র এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে দিলে চীনের কাছে কৌশলগত ও সামরিক সুবিধা হারাতে পারে।
রবিবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এআই নিয়ে যেসব আশঙ্কা তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলোর পেছনে ‘নেতিবাচক শক্তি’ কাজ করছে। তার ভাষায়, এমন অনেক কিছুর কথা বলা হচ্ছে, যা বাস্তবে ঘটবে না।
একই দিন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও এআই খাতে জরুরি আইন করার আহ্বান নাকচ করে দেন। সিএনএনের জেক ট্যাপারকে তিনি বলেন, যারা এআইয়ের সীমা আরও এগিয়ে নিতে কাজ করছেন, তারা চাইলে নিজেরাই গতি কমাতে পারেন। কিন্তু কংগ্রেসের উচিত হবে না তাড়াহুড়ো করে আইন করা।
ট্রাম্প ও জনসনের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—এআইকে নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি শুধু নিরাপত্তা বা প্রযুক্তির বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এআই নিয়ে সতর্কবার্তায় শীর্ষ প্রযুক্তিবিদেরা
গত এক সপ্তাহে এআই নিয়ে উদ্বেগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সতর্কবার্তাগুলো আসছে এআই শিল্পের ভেতর থেকেই।
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই শনিবার বলেন, এআই শিল্পের অগ্রগতির গতি কমানো প্রয়োজন। সিএনএনের অ্যান্ডারসন কুপারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এআই যাতে মানবজাতির ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য প্রযুক্তি খাতের নেতাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আমোদেইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হন। তিনি এআই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে স্বাধীন মূল্যায়নকারীদের যুক্ত করার প্রস্তাব দেন।
ইলন মাস্কের এআই প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের প্রধান চ্যাটবট গ্রকের নির্মাতা মাস্কও সংক্ষেপে লিখেছেন, “দারিও ঠিক বলেছেন।”
গুগলের ডিপমাইন্ডের চেয়ারম্যান ডেমিস হাসাবিসও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এর আগে এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন আরও বিস্ফোরক সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তার বক্তব্যের সারকথা ছিল—যারা এআই তৈরি করছেন, তারা নিজেরাই আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেন যে এই প্রযুক্তি দশকের শেষ নাগাদ মানবজাতিকে ধ্বংস করার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
এ ধরনের সতর্কবার্তা প্রযুক্তি খাতের ভেতরে গভীর বিভাজনও প্রকাশ করছে। কেউ মনে করছেন, স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার ব্যবস্থা একসময় এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে যে তা মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করবে।
অন্যদিকে সংশয়বাদীদের দাবি, এ ধরনের ‘ধ্বংসের পূর্বাভাস’ অতিরঞ্জিত এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা নিজেদের পণ্যের গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখাতেই এমন ভয় তৈরি করছেন।
মার্কিন রাজনীতিতে নতুন ইস্যু এআই
এআই নিয়ে বিতর্ক এখন প্রযুক্তির গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি মার্কিন রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ বিষয়টি বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এআই অবকাঠামো নিয়েও জনঅসন্তোষ বাড়ছে। বিপুলসংখ্যক ডেটা সেন্টার নির্মাণের কারণে বিদ্যুৎ ও পানির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে উভয় দলেরই কিছু প্রার্থী এসব ডেটা সেন্টার নির্মাণে সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
এআই নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগও দ্রুত বাড়ছে। চলতি মাসে এনবিসি নিউজের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এআই নিয়ে আশাবাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।
এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এআইয়ের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ট্রাম্পের অর্থনীতি নিয়ে জনগণের আস্থাও কমেছে। বিদ্যুতের বাড়তি বিলের জন্য ডেটা সেন্টারগুলোকে দায়ী করার প্রবণতাও জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত সংকটকে আরও রাজনৈতিক করে তুলছে।
এছাড়া কয়েকজন বিলিয়নিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোক্তার হাতে এআইয়ের মতো শক্তিশালী প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত হওয়াও জনমনে উদ্বেগ তৈরি করছে। তাদের হাতে বিপুল প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা ভবিষ্যতে সমাজে নতুন ধরনের বৈষম্য ও সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে—এমন আশঙ্কাও বাড়ছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। চীন বা কোনও অরাষ্ট্রীয় শক্তি যদি উন্নত এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে, তাহলে সেটি ওয়াশিংটনের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক সুযোগ
এআই নিয়ে জনমনে বাড়তে থাকা উদ্বেগকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ দেখছেন ডেমোক্র্যাটরা। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ দলের একাধিক নেতা সতর্ক করে বলেছেন, সরকার নিয়ন্ত্রিতভাবে এআই উন্নয়নে বাধা না দিলে বিশ্ব একটি ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে।
রবিবার এবিসি নিউজের ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস বলেন, এআই উন্নয়নের গতি কমাতে কংগ্রেসকে ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ নিতে হবে। এ বিষয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরিতে ডেমোক্র্যাটরা চলতি সপ্তাহেই বৈঠকে বসবেন বলেও জানান তিনি।
অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন গ্যালেগোও এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি পারমাণবিক অস্ত্রের সঙ্গে এআইয়ের তুলনা করে বলেন, পারমাণবিক বোমা তৈরি করার পর সেই অস্ত্র নিজে থেকে কখন কোথায় বিস্ফোরিত হবে—এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কিন্তু এআই ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
তিনি এ পরিস্থিতিকে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের গল্পের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এটি অনেকটা এমন—“দানব বেরিয়ে গেছে, এখন আমাকে সাহায্য করে তাকে থামাও।”
রিপাবলিকান শিবিরেও মতভেদ
তবে এআই নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে রিপাবলিকানদের মধ্যেও পুরোপুরি ঐকমত্য নেই।
টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ সম্প্রতি বলেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। অন্যদিকে মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলি গত সপ্তাহে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন। জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টরা অন্য একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা চালিয়েছিল, সেটি নিয়েই তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সুপারইন্টেলিজেন্ট বা অতিমানবীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এআই স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ এবং ফেডারেল নিয়ন্ত্রণ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত উন্নত এআইয়ের বিকাশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।
অর্থাৎ, এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের মধ্যে একটি সরল বিভাজন তৈরি হয়নি। তবে ডেমোক্র্যাটদের বড় অংশ যেখানে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপের পক্ষে, ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে প্রযুক্তি খাতের প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতাই ট্রাম্পের বড় যুক্তি
ট্রাম্পের যুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, যুক্তরাষ্ট্র এআই উন্নয়নে পিছিয়ে গেলে চীন সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে।
রবিবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এআইয়ে চীনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এবং তিনি এই অবস্থান ধরে রাখতে চান। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশ এবং এআইয়ের ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব ধরে রাখা জরুরি।
ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেটও এ বিষয়ে একই ধরনের যুক্তি দিয়েছেন। তার মতে, এআই উন্নয়ন একতরফাভাবে সীমিত করার চেয়ে বড় ঝুঁকি হতে পারে—কোনও ‘দুষ্ট শক্তি’ যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার চেয়েও উন্নত এআই তৈরি করে জীবাণু অস্ত্রের মতো বিপজ্জনক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পায়।
এই যুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেই এআইয়ের গতি কমিয়ে দেয়, তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র বা অরাষ্ট্রীয় শক্তি একই বিধিনিষেধ মানবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
আন্তর্জাতিক চুক্তি কতটা সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবজাতির নিরাপত্তার স্বার্থে এআই নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত চুক্তির প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু এখানেও বড় রাজনৈতিক বাধা রয়েছে।
কারণ, এ ধরনের চুক্তির জন্য দেশগুলোকে নিজেদের কিছু ক্ষমতা আন্তর্জাতিক কাঠামোর কাছে হস্তান্তর করতে হবে। অথচ ট্রাম্প প্রশাসনের মূল নীতিই হলো যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করে একতরফা মার্কিন আধিপত্য নিশ্চিত করা।
আরেকটি প্রশ্ন হলো—স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র বা অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কি আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলবে?
তবে এআইয়ের উত্থান শুধু গণতান্ত্রিক দেশগুলোর জন্যই চ্যালেঞ্জ নয়। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের নীতির জন্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম শক্তিশালী এআই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
চলতি মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের বৈঠকের কথা রয়েছে। দুই নেতা চাইলে এআই নিয়ন্ত্রণ ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশ্নে নতুন কোনও কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিতে পারেন।
ট্রাম্পের ‘নির্লিপ্ততা’ নিয়েও প্রশ্ন
এআই নিয়ে বিপর্যয়কর সতর্কবার্তার প্রতি ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া তার সমালোচকদের আরও উদ্বিগ্ন করেছে।
রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি খাটো করে দেখছেন না, তবে তার বিশ্বাস এআইয়ের সুফল ক্ষতির তুলনায় অনেক বেশি হবে।
এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত সব ঠিক হয়ে যাবে। তার ভাষায়, এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘কিছু একটা ব্যবস্থা’ থাকবে।
ট্রাম্পের এই মনোভাবকে তার সমালোচকেরা কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করছেন। সে সময়ও মহামারির ভয়াবহতা সম্পর্কে তার কিছু মন্তব্য পরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের সামগ্রিক নীতিতেও প্রযুক্তি খাতে কম নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সহসভাপতি ডেভিড স্যাকসও শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এআই শিল্পের নেতাদের নিজেদের শিল্পের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে; তাদের সরকারের অনুমতির প্রয়োজন আছে—এমন ভান করা বন্ধ করা উচিত।
কেন এটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হতে পারে
এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি অতীতের অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মতো হলেও এর একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। এটি অত্যন্ত দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং প্রযুক্তিটির প্রকৃতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি অনেকটাই জটিল ও অস্বচ্ছ।
ফলে সমস্যা শুধু এই নয় যে প্রযুক্তি সরকারগুলোর নিয়ন্ত্রণক্ষমতার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বরং যে রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের এই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারাও এর প্রকৃত সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি পুরোপুরি বুঝতে পারছেন কি না—সেটিও প্রশ্ন।
এ কারণেই এআই এখন মার্কিন রাজনীতিতে একটি সম্ভাব্য মোড় পরিবর্তনকারী ইস্যু হয়ে উঠছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি এআই নিয়ে জনমনের উদ্বেগকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করতে পারে, তাহলে এটি প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও এটি নতুন রাজনৈতিক ঝুঁকি। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের প্রতি জনঅসন্তোষের সঙ্গে যদি এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর ভয়, বিদ্যুতের বাড়তি দাম, ডেটা সেন্টারের বিস্তার এবং প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ারদের অতিরিক্ত ক্ষমতা নিয়ে ক্ষোভ যুক্ত হয়, তাহলে বিষয়টি রিপাবলিকানদের জন্য বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
সবশেষে প্রশ্নটি আর শুধু প্রযুক্তির নয়—এটি ক্ষমতা, নিরাপত্তা ও মানবজাতির ভবিষ্যতের প্রশ্ন। আগামী দিনের মার্কিন রাজনীতিতে তাই ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে একটি মৌলিক প্রশ্ন: এআইকে নিয়ন্ত্রণ করবে মানুষ, নাকি একসময় মানুষকেই নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করবে মেশিন? সূত্র: সিএনএন