
জইশ-ই-মুহাম্মদের (জেইএম) প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারের অর্থ বাড়ানোর পাকিস্তানের সিদ্ধান্তকে ‘ভাঁওতাবাজি’ ও ‘লোক দেখানো’ পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, এমন ঘোষণা দেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ মন্তব্য করেন।
পাকিস্তানের এমন পদক্ষেপ নিয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তানিদের এমন কৌশল ও লোক দেখানো নতুন নয়। সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা করা কোনো রাষ্ট্রের এমন ভাঁওতাবাজি ঘোষণার কোনো গুরুত্ব নেই। তাদের বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।’
এর আগে সোমবার পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) মাসুদ আজহারের বিষয়ে সহায়ক তথ্য দেওয়ার জন্য আগে ঘোষিত পুরস্কারের অর্থ আরও ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি বাড়ায়।
একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সর্বাধিক কাঙ্ক্ষিত তালিকার নতুন ‘রেড বুকে’ মাসুদ আজহারকে পলাতক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার পুরস্কারের অর্থ বেড়ে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
এফএটিএফের বৈঠকের আগে পাকিস্তানের পদক্ষেপ
আগামী অক্টোবরে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) পূর্ণাঙ্গ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের নেওয়া এই পদক্ষেপকে দেশটির পুনরায় ‘গ্রে লিস্টে’ অন্তর্ভুক্ত হওয়া ঠেকানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এফএটিএফের গ্রে লিস্টে ছিল পাকিস্তান।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ২০২১ সাল থেকেই দাবি করে আসছে, মাসুদ আজহার পাকিস্তান ছেড়ে আফগানিস্তানে পালিয়ে গেছেন।
তবে গত সপ্তাহে কাবুলের তালেবান সরকার ইসলামাবাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, আফগান ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
একাধিক বড় হামলায় মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ভারতে সংঘটিত একাধিক বড় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মাসুদ আজহারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০০১ সালে ভারতীয় সংসদে হামলা, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা, ২০১৬ সালে পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণ।
পাকিস্তানের ‘রেড বুকে’ ১ হাজার ৮০৪ সন্ত্রাসী
এদিকে পাকিস্তানের এফআইএর সর্বশেষ ‘রেড বুকে’ সবচেয়ে বেশি কাঙ্ক্ষিত সন্ত্রাসী হিসেবে ১ হাজার ৮০৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২০২১ সালের তালিকায় এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৩০। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে তালিকায় থাকা ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।
নতুন তালিকায় ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় ভূমিকা রাখার অভিযোগে পাকিস্তানি তদন্তকারীদের শনাক্ত করা কয়েকজনের নামও রাখা হয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ১৬৬ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।
তালিকায় মুম্বাই হামলায় অর্থায়ন, পরিকল্পনা কিংবা হামলাকারীদের ভারতে পৌঁছানোর জন্য পরিচালিত সামুদ্রিক অভিযানে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে—এমন ১৯ জনের নাম রয়েছে।
তাদের মধ্যে ১৭ জনের ছবি এবং হামলায় তাদের ভূমিকার বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে।