
যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বক্তব্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও গার্ডিয়ান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন আব্বাস আরাঘচি। দুই গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ করা হলে সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং আলোচনা শুরু করা হবে।
সাত দিনের মধ্যে প্রণালি খোলার প্রস্তাব
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গত মঙ্গলবার জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োদো প্রথম এই প্রস্তাবের কথা প্রকাশ করে। তবে ওই সময় ইরানের গণমাধ্যমগুলো প্রতিবেদনটির তথ্য অস্বীকার করেছিল।
একই দিনে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
যেসব শর্ত দিয়েছে তেহরান
আব্বাস আরাঘচির বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সর্বশেষ পরিকল্পনায় সাত দিনের জন্য লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ইরানের জব্দ করা অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করার শর্ত রাখা হয়েছে। তেল রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও প্রস্তাবের শর্তের মধ্যে রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ হলে সপ্তম দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় আরাঘচি
আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি নিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে চীনও ইরানের দেওয়া এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান শি জিনপিং।
ইয়েমেনেও যুদ্ধ বন্ধের দাবি
এর আগে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি জানিয়েছিলেন, তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে ইয়েমেনে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে।
আগের সমঝোতাও ভেঙে গিয়েছিল
যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। সেই সমঝোতার আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
তবে সমঝোতাটি কার্যকর থাকার কিছুদিন পরই ভেঙে যায়। এরপর হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।