
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি নেই। তাঁর পরিবর্তে নিউইয়র্কে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের বিতর্কে ভারতের হয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জয়শঙ্কর উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নিচ্ছেন।
তবে এবারের অধিবেশনে মোদি কেন যাচ্ছেন না, সে বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।
মোদির অনুপস্থিতি কি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত?
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মোদির অনুপস্থিতি একেবারে নতুন ঘটনা নয়। ২০২৪ সালে তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন এবং নিউইয়র্কে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
কিন্তু ২০২৫ সালে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন জয়শঙ্কর। এবারও একই দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। অর্থাৎ টানা অন্তত দুই বছর ভারত প্রধানমন্ত্রীকে সাধারণ পরিষদে না পাঠিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পাঠানোর পথ নিয়েছে। ২০২৬ সালের অধিবেশনেও জয়শঙ্করের বক্তব্য ২৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত এবং তাঁর কর্মসূচিতে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক রাখা হয়েছে।
সাধারণ পরিষদের মঞ্চের সীমাবদ্ধতাও কি কারণ?
এর পেছনে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সীমিত কার্যকারিতাকে একটি কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বিশ্বের প্রায় সব দেশ তাদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে। কিন্তু বড় ধরনের সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা অনেক সময় সাধারণ পরিষদের বক্তৃতার বাইরে দ্বিপক্ষীয় কিংবা ছোট পরিসরের বহুপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে এগোয়।
ভারতও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও ফোরামে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। ফলে শুধু সাধারণ পরিষদের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট দেশ ও গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারে হতাশা
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার ভারতের দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি। এ বিষয়ে অগ্রগতি না হওয়াও নয়াদিল্লির হতাশার একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশন শুরুর আগেই জাতিসংঘ সংস্কারের প্রশ্নে ভারত আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থনও আদায়ের চেষ্টা করছে দিল্লি।
সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার দাবিতে ভারত ইউরোপের ভি-৪ বা ভিসেগ্রাদ গ্রুপের চার দেশ—চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও স্লোভাকিয়ার—সমর্থন পেয়েছে।
তবে জাতিসংঘ খুব শিগগির তার কাঠামো পরিবর্তন করবে—এমন প্রত্যাশা ভারতের নেই। সে কারণে শুধু সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বক্তব্য রাখার চেয়ে বাস্তব ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন কূটনৈতিক যোগাযোগকে নয়াদিল্লি বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।
কোয়াড, ব্রিকস ও জি-২০ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এই প্রেক্ষাপটে কোয়াড, ব্রিকস, জি-২০সহ ছোট বহুপক্ষীয় কাঠামোগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে।
এসব ফোরামে তুলনামূলক কমসংখ্যক দেশের সঙ্গে নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনা করা যায়। একইভাবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমেও অর্থনীতি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও বাণিজ্যের মতো বিষয়ে বাস্তব সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ থাকে।
তাই মোদি নিউইয়র্কে না থাকলেও ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা বন্ধ থাকছে না।
জয়শঙ্করের কর্মসূচিতেই মিলছে ইঙ্গিত
২০২৬ সালের সাধারণ পরিষদে জয়শঙ্করের কর্মসূচি দেখলেও বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট হয়। তিনি শুধু সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার জন্য নিউইয়র্কে যাননি; বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকেও অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও তিনি বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এবারের সাধারণ বিতর্কে আস্থার সংকট, পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থা এবং জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করার প্রশ্ন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনকে ভারতও জাতিসংঘের কার্যকারিতা ও সংস্কারের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছে।
এখানে জয়শঙ্করের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতির কয়েকটি বড় লক্ষ্য হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, গ্লোবাল সাউথ বা তৃতীয় বিশ্বের নেতৃত্ব, বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান এবং ২০২৮-২৯ মেয়াদে নিরাপত্তা পরিষদের আসনের জন্য ভারতের প্রচার।
এসব বিষয়ে জয়শঙ্কর নিয়মিত ভারতের অবস্থান তুলে ধরছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উপস্থিতি ছাড়া ভারতের কূটনৈতিক বার্তা আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছানো সম্ভব নয়—এমন পরিস্থিতি নেই।
যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সংকটের মধ্যে ভারতের কূটনীতি
আরেকটি বিষয় হলো বর্তমান সংবেদনশীল অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিবেশ।
২০২৬ সালের বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুদ্ধ, জ্বালানি নিরাপত্তা, ইউক্রেন, ইরান, গাজা, পারমাণবিক নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণ এবং জাতিসংঘ সংস্কারের মতো একাধিক জটিল বিষয় সামনে রয়েছে।
এসব ইস্যুতে ভারতকে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইরান, ইসরায়েল, আরব বিশ্ব এবং গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে সম্পর্ক সামলাতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সামনে রেখে তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত কূটনৈতিক ভাষায় ভারতের অবস্থান তুলে ধরার সুবিধা থাকতে পারে।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও আলোচনায়
ভারতে বর্তমানে মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারও বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে চাপের মধ্যে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছুদিন আগে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হওয়া আন্দোলন তার একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ওই আন্দোলন মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের নৈতিক অবস্থানকে অনেকটাই দুর্বল করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর পর নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরোধ নিয়ে প্রকাশিত খবর বিরোধীদের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অন্য দুই কমিশনারকে গুরুত্ব দেন না।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিযোগ করেন, ‘ভোট চুরি ভারতীয় জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ এবং আমাদের সংবিধানের ওপর সরাসরি আক্রমণ। বিজেপি, আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ) এবং যারা এটি সংগঠিত করেছে সেই নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রদ্রোহের কাজ করেছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন। সেখানে নির্বাচন কমিশন ও এর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সময় আসবে। আপনারা পার পাবেন না।’
বেকারত্ব ও অর্থনীতির চাপ
এর পাশাপাশি ভারতে বেকারত্ব, চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মোদির সরকার চাপের মুখে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ভারতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতিও দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিজেপি সরকারের ওপর চাপ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কের টানাপোড়েন
জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরে না যাওয়ার পেছনে দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের বিষয়টিও পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না বলে প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক টানাপোড়েন ভারতের বর্তমান কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। সেপ্টেম্বরে রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার মার্কিন আইনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ভারত এ ক্ষেত্রে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তী কাঠামোতে সম্মতি হয়েছিল এবং সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর কিছু অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার ও কমানোর ঘোষণা দেয়। ফলে দুই দেশের সম্পর্ককে শুধু টানাপোড়েনের একটি রেখায় দেখার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সমঝোতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়।
মোদি-ট্রাম্প সম্পর্কেও বদল
একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোদিকে ব্যক্তিগতভাবে বেশ গুরুত্ব দিতেন। এমনকি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেও ভারতের জন্য আলাদা গুরুত্ব ছিল।
কিন্তু ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নানা টানাপোড়েন তৈরি হয়। ভারতের ওপর একাধিকবার শুল্ক আরোপের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ক্ষেত্রে আরও ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতাও মার্কিন আইনে রাখা হয়েছে।
মোদি-ট্রাম্পের সর্বশেষ বড় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছিল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর দুই নেতা আর একে অপরকে নিজ নিজ দেশে আতিথ্য দেননি—এমন বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে এই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানি নেতাদের একাধিকবার হোয়াইট হাউসে আতিথ্য দিয়েছেন ট্রাম্প।
চলতি বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের সংক্ষিপ্ত সংঘাত বন্ধে ট্রাম্প কৃতিত্ব দাবি করলেও এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান ছিল ভিন্ন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আগের মতো ভালো নেই—এমন বিশ্লেষণও সামনে এসেছে।
মোদির সময় ব্যবস্থাপনাও একটি কারণ হতে পারে
ভারতের কূটনৈতিক ক্যালেন্ডার বর্তমানে একাধিক শীর্ষ সম্মেলন, দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং বহুপক্ষীয় উদ্যোগে ব্যস্ত। ফলে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে পাঠানোর পরিবর্তে যেসব জায়গায় তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে বেশি প্রয়োজন, সেখানে সময় দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কের মতো নিয়মিত বার্ষিক একটি অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো সেই কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনার অংশ হতে পারে।
তাহলে মোদি কেন নেই?
২০২৬ সালের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নরেন্দ্র মোদির অনুপস্থিতির পেছনে একক কোনো কারণ নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা কঠিন। ভারত সরকার এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণ প্রকাশ করেনি। তবে জয়শঙ্করের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পাঠানো এবং তাঁর বিস্তৃত দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কর্মসূচি থেকে এটিকে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষকের মতে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের বর্তমান কূটনৈতিক চাপ, জাতিসংঘ সংস্কারে অগ্রগতির অভাব, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও রাশিয়ার জ্বালানি ইস্যুতে টানাপোড়েন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ—সবগুলো বিষয়ই মোদির অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনায় আসছে।
তবে এসবের কোনটি মোদির এবারের নিউইয়র্ক সফর না করার সরাসরি কারণ, সে বিষয়ে সরকারি কোনো ব্যাখ্যা নেই।
তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে, রয়টার্স, ভাস্কর ইংলিশ, ফ্রি প্রেস জার্নাল ও ফক্স নিউজ