
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত থামাতে তেহরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবারও হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দেশটিতে মার্কিন বোমা হামলা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে তাঁর সহযোগীদের জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের রোডম্যাপ পাঠিয়েছে তেহরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রস্তাবটি জুনে হওয়া একটি সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় যুদ্ধবিরতির মতো শর্তও রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশটিকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকি দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়টিকে তাঁর অবস্থানের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আলোচনার সুযোগ নষ্ট করে সামরিক পদক্ষেপ বেছে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি চলমান সংঘাতের অবসানে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের সর্বশেষ অবস্থান এবং ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের খবরের মধ্যে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ বা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সরকারি ঘোষণা নেই।