
হরমুজ প্রণালিতে গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৯টি জাহাজে সরাসরি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী’ হিসেবে চিহ্নিত এসব জাহাজের মধ্যে প্রথম রাতে ১২টি এবং দ্বিতীয় রাতে সাতটিতে হামলা চালানো হয়।
ইরানের এমন দাবির স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২১ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহান্তে মাত্র ১৭টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছিল, যেখানে সংঘাতের আগে দৈনিক গড়ে প্রায় ১২৫টি জাহাজ চলাচল করত।
ইরানের দাবি, অনুমোদনহীন পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করায় এসব জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা আরও সতর্ক করেছেন, ইরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করা হলে সশস্ত্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হতে পারে।
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানববিহীন ডুবোযান জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, জব্দ করা যানটির নাম ‘রেমাস ৬০০’। আইআরজিসির দাবি, এটি গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
আইআরজিসি জানিয়েছে, গোয়েন্দা সক্ষমতা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে ডুবোযানটি আটক করা হয়। বর্তমানে এটি ইরানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এর ভেতরে থাকা তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে চলতি মাসের ৮ সেপ্টেম্বরও হরমুজ প্রণালির কাছে আরেকটি মার্কিন মানববিহীন ডুবোযান জব্দ করার দাবি করেছিল আইআরজিসি। ফলে রেমাস ৬০০ আটকের দাবি চলতি মাসে এ ধরনের দ্বিতীয় ঘটনা।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ইরান আরও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, কৌশলগত এই সমুদ্রপথে ‘বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড’ ও অনুমোদনহীন চলাচলের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নেবে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং কিছু জাহাজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (AIS) বন্ধ রেখেও চলাচল করছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ‘নাজুক’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রামিনিয়া। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
আক্রামিনিয়া আরও বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী যেকোনো শত্রুর মোকাবিলায় প্রস্তুত। পশ্চিম এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে দেওয়া হলে অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।