
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক হামলায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমে তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ভ্যানে ড্রোন হামলায় ছয়জন এবং আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় একজন নিহত হন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুহাম্মদ আবদেল আজিজ আল-নাজ্জারও রয়েছেন। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের সংখ্যা ২৬৩ জনে পৌঁছেছে।
তাল আল-হাওয়া এলাকায় যাত্রীবাহী ভ্যানে ড্রোন হামলার ঘটনায় স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ছয়জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মীরা আহত ১৩ জনকে আল-কুদস হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি জানান, চিকিৎসকেরা আহতদের বাঁচাতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। দীর্ঘদিনের হামলা ও অবরোধে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় অন্তত এক নারী নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ গাজার বাস্তুচ্যুতদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে দুজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খান ইউনিসেও ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের খবর এসেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নয়টি মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন হামলায় নিহত এবং একজন নারী আগের হামলায় আহত হওয়ার পর মারা গেছেন। তথাকথিত যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৪৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ২২৬ জন; গত ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন ৩১ জন।
হিন্দ খুদারি জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও সহিংসতা থামেনি। প্রতিদিনই মানুষ নিহত ও আহত হচ্ছেন এবং মানবিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ বাজারে যাওয়া কিংবা সন্তানদের স্কুলে নেওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজেও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটিতে অন্তত ৭৪ হাজার ৩২ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের আগস্টের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজাজুড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনার সংখ্যা আরও ৯ শতাংশ বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।