.webp)
ইউরোপের দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। সম্প্রতি শিক্ষাব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েছে ফ্রান্সের সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় এবার স্পেনের রাজপথও সরকারবিরোধী বিক্ষুব্ধ জনতার উপস্থিতিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে।
আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, উচ্ছেদের আশঙ্কা এবং সাধারণ মানুষের ক্রমশ কমে যাওয়া আবাসন সামর্থ্যের প্রতিবাদে স্পেনে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। রাজধানী মাদ্রিদসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে রাজপথে নেমে আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
দীর্ঘদিন ধরেই স্পেনে বাড়ি ভাড়া ও আবাসন ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে মাদ্রিদসহ বড় শহরগুলোতে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য উপযুক্ত বাসা খুঁজে পাওয়া এবং নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ তাদের।
ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও উচ্ছেদ বন্ধের দাবি
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে বাড়িভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ, ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াচুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করা এবং স্বল্পমেয়াদি ও পর্যটননির্ভর ভাড়া ব্যবস্থায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
তাদের ভাষ্য, আবাসনকে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করে নীতিগত পরিবর্তন আনা জরুরি। একই সঙ্গে ভাড়ার বাজারে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তে থাকা চাপ কমাতে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংসদে দুটি ডিক্রি বাতিল, বাড়ছে আন্দোলনের চাপ
শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্পেনের পার্লামেন্টে সরকারের আবাসনসংক্রান্ত দুটি ডিক্রি প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় প্রত্যাখ্যাত হয়। এর পর আবাসন সংকট নিয়ে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
প্রথম ডিক্রিতে আর্থিকভাবে সংকটে থাকা ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা, ভাড়া বৃদ্ধির সীমা নির্ধারণ, স্বল্পমেয়াদি ও কক্ষভিত্তিক ভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট ধরনের আবাসন বিনিয়োগে বিধিনিষেধের প্রস্তাব ছিল। অন্যদিকে দ্বিতীয় ডিক্রিতে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছিল।
কংগ্রেসে দুটি প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আন্দোলনকারীরা এখন আরও কঠোর কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাদ্রিদের ভাড়াটিয়া সংগঠনের মুখপাত্র ভালেরিয়া রাকু জানিয়েছেন, আবাসন ইস্যুতে সাধারণ ধর্মঘটের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বড় শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে সম্ভাব্য ধর্মঘটের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।