
বনাঞ্চলের আগুন থেকে ছড়িয়ে পড়া ঘন ধোঁয়াশায় ইন্দোনেশিয়ায় গত দুই মাসে ২ হাজার ৬০৪টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ আগস্ট থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত এসব ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটে।
মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ধোঁয়াশার কারণে ১ হাজার ১২৯টি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৪২০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৩টি ফ্লাইটের গন্তব্য পরিবর্তন করতে হয়েছে। উড্ডয়নের পর ছয়টি ফ্লাইট নিজ বিমানবন্দরে ফিরে আসে। অন্যদিকে, ২৬টি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের আগেই ছেড়ে যায়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বনাঞ্চলের আগুন থেকে সৃষ্ট ধোঁয়াশায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুমাত্রা ও কালিমান্তান অঞ্চল। তবে এর প্রভাব দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ১৩ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সুলাওয়েসি, মালুকু, উত্তর মালুকু ও পাপুয়া অঞ্চলেও বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
ধোঁয়াশায় আক্রান্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে পালু, তারনাতে, আম্বন, তিমিকা, সরং, পন্টিয়ানাক, পেকানবারু ও পালেমবাং।
ঘন ধোঁয়ার কারণে আকাশে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় বিমান চলাচলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন, উড্ডয়ন বাতিল এবং বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক বছরের মধ্যে দেখা দেওয়া অন্যতম গুরুতর ধোঁয়াশার ব্যাপকতা তুলে ধরেছে।