
সৌদি আরবে একের পর এক হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। একই দিনে শায়বাহ তেলক্ষেত্রে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করা ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে কর্মরত নিজেদের কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২১ অক্টোবর) সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এক বিবৃতিতে দাম্মামের বিমানবন্দরে হামলা ও হতাহতের তথ্য জানায়। সংস্থাটি বলেছে, আহতদের কারও আঘাত সামান্য, আবার কারও অবস্থা গুরুতর। সবাইকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, শায়বাহ তেলক্ষেত্রে আরামকোর একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা ড্রোনটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়। এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন।
ইয়েমেনের হুতি বাহিনী ও সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে সংঘাতের উত্তেজনার মধ্যেই সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দর ঘিরে এসব হামলার ঘটনা ঘটছে।
গত সপ্তাহেও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় হতাহতের খবর জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। ১১ অক্টোবরের একটি হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়। এর আগের দিন একই বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে সৌদি আরবে নিজেদের কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে মার্কিন মিশন থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও বুধবার সৌদি আরবে হুতিদের সম্ভাব্য আরও হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।