
আফ্রিকার দেশ সুদানে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব হামলায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যারা একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। এ ছাড়া একটি বাজারে চালানো হামলাতেও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার সন্ধ্যায় সুদানের পশ্চিম করদোফান রাজ্যের দুটি স্থানে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫০ জন নিহত হন। সুদানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সুদান ওয়ার অবজারভেটরি’র কাছে কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যাওয়ার পথেও প্রাণঘাতী হামলার শিকার
রোববারের হামলাগুলোতে পশ্চিম করদোফান রাজ্যের দুটি এলাকা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এসব হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় হতাহতের এই সংখ্যা জানিয়েছে সুদানের সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাটির সূত্রগুলো।
আবেইয়ের বাজারে হামলায় নিহত ১৫৩
রোববারের ঘটনার পরদিন সোমবার সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যবর্তী বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকা আবেইয়ের একটি বাজারে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সুদানের সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, বাজারে হামলাটিও দেশটির সেনাবাহিনী চালিয়েছে। সূত্রটির দাবি, বাজারটি আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
সুদানে ধারাবাহিক প্রাণঘাতী ড্রোন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সোমবার সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, এসব হামলায় শিশুদের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকেরাও প্রাণ হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে হামলার কারণে জরুরি সেবাব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।
ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে শুরু সংঘাত
২০২৩ সালে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে দেশটিতে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই যুদ্ধে ড্রোন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
অস্ত্রের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও সংঘাতে জড়িত দুই পক্ষের কাছেই কয়েকটি দেশ ড্রোন সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আবেই অঞ্চলে ড্রোন হামলার পর সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তেলসমৃদ্ধ এই অঞ্চলটি দুই দেশ যৌথভাবে পরিচালনা করে।
২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতা অর্জন করলেও আবেইয়ের মালিকানা নিয়ে সুদান ও দক্ষিণ সুদানের বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদ জানাতে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দক্ষিণ সুদান।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে সুদানের অভ্যন্তরীণ সংঘাত দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের বিস্তৃত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সংঘাতে আরও গভীর হচ্ছে মানবিক সংকট
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাবে সুদান ও দক্ষিণ সুদানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সুদানের চলমান যুদ্ধকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই সংঘাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি এক কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি