
মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানের দায়ে বাংলাদেশিসহ ১৫৭ জন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির সরকার। ভবিষ্যতে পুনরায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশ ঠেকাতে বহিষ্কৃত সবাইকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) কেদাহ রাজ্যের বেলান্তিক অভিবাসন আটককেন্দ্রে থাকা এসব ব্যক্তিকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) টার্মিনাল-১ দিয়ে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হয়। ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক থাকলেও তাঁদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম) কেদাহ রাজ্য শাখার তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যাবাসিত ১৫৭ জনের মধ্যে ১২৮ জন পুরুষ, ২৬ জন নারী ও তিনজন ছেলে শিশু। তাঁদের মধ্যে চীন, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, অস্ট্রেলিয়া, নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন।
এসব অভিবাসীকে কেদাহ রাজ্যের সিক এলাকার বেলান্তিক অভিবাসন আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ১৯৬৩ সালের অভিবাসন বিধিমালার আওতায় সাজা ভোগ সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করেন কেদাহ অভিবাসন বিভাগের ২১ কর্মকর্তা। তাঁদের নেতৃত্ব দেন বেলান্তিক অভিবাসন আটককেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের বিমানভাড়া বহন করেছেন সংশ্লিষ্ট আটক ব্যক্তিরা, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এবং নিজ নিজ দেশের দূতাবাস। ফলে এ কার্যক্রমে বিমানভাড়ার ব্যয় মালয়েশিয়া সরকার বহন করেনি।
এদিকে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মালয়েশিয়ায় পুনঃপ্রবেশ ঠেকাতে দেশটির অভিবাসন বিভাগের ব্যবস্থায় তাঁদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী তাঁদের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
কেদাহ অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান, নজরদারি, আটক, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মালয়েশিয়ার নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।