
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও সীমান্ত সমস্যা সমাধানে আলোচনার ইতিবাচক বার্তার মধ্যেই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ সিং কাপুর।
বৃহস্পতিবার রাজস্থানের আলওয়ারে বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, গত কয়েক দিনে অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে বাহিনীর নতুন ‘শৌর্য’ ইউনিটের কমান্ডোরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এই ইউনিট।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও সীমান্ত সমস্যা সমাধানে আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা এসেছিল। এমন পরিস্থিতিতে অরুণাচলে সংঘাতের পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত থাকার বিষয়ে আইটিবিপি প্রধানের বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের চীন সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে সরকারি পর্যায়ে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে কটাক্ষ করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির মুখপাত্র জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘স্বঘোষিত বিশ্বগুরু যখন চীনকে মেপেজুপে ছাড় দিয়ে চলেছেন, তখন আইটিবিপি প্রধান অরুণাচলে চীনা সেনার সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক মোকাবিলার যথাযথ প্রশংসা করেছেন। কিন্তু তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বা তার সরকার নীরব।’
এর আগে অরুণাচল প্রদেশে চীনের আগ্রাসন অব্যাহত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। লাদাখের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হলেও অরুণাচলে চীনা সেনাদের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তারা।
রাজ্যটির আপার সুবানসিরি জেলার সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগে জানায়, গত ছয় বছরে ধাপে ধাপে তাদের পৈতৃক জমি ও চারণভূমি দখল করেছে চীনা সেনারা।