
ইরাকের ভূখণ্ডে যুদ্ধ বা পরামর্শক—কোনো ভূমিকাতেই আর মার্কিন সেনা অবস্থান করছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলি ফালিহ আল-জাইদি। একই সঙ্গে আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে থাকা সব অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইরাকি নিউজ এজেন্সিকে (আইএনএ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-জাইদি বলেন, বিদেশি সেনা উপস্থিতি শেষ হওয়ায় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে অস্ত্র রাখার যৌক্তিকতা আর নেই। ইতোমধ্যে তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। বাকি চারটি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, ইরাকে রাষ্ট্রের অধীনে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পরিচালিত হবে, গোষ্ঠীগুলোর অধীনে রাষ্ট্র নয়। আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো অস্ত্র থাকবে না বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার হলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বজায় রাখার বিষয়ে ইরাক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন আল-জাইদি। তাঁর ভাষ্য, কারিগরি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো ইরাকে কাজ শুরু করেছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন ও জোটের সেনা এবং সরঞ্জাম প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক মিশনের সমাপ্তি ঘটে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতে এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়। তবে আইএসবিরোধী মিশনটি জর্ডানে সদর দপ্তর স্থানান্তর করে সিরিয়ায় কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে আল-জাইদি বলেন, ইরাক কোনো যুদ্ধে জড়াবে না। ইরান সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া ইরাকের জন্য আত্মঘাতী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, আঞ্চলিক সংকটের সমাধানে উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন।
এদিকে হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে তেল রপ্তানিতে বাধার মুখে বিকল্প পথ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে ইরাক। তুরস্কের জেহান বন্দরের মাধ্যমে তেল রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি ২০৩২ সালের মধ্যে দৈনিক তেল উৎপাদন ১ কোটি ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তুরস্কের সঙ্গে প্রস্তাবিত ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রকল্পকেও ইরাকের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। প্রকল্পটিকে দেশটির ‘তৃতীয় নদী’ হিসেবে আখ্যা দেন আল-জাইদি।