
ইবোলার ভয়াবহ সংক্রমণে বিপর্যস্ত আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো)। দেশটিতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করেছে ভাইরাসটির বিরল ‘বান্দিবুগিও’ ধরন, যার বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো চিকিৎসা বা টিকা নেই।
দেশটির সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইবোলায় মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার অতিক্রম করে। চলতি বছরের মে মাসে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এটি ডিআর কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলার সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনাক্তকরণে বিলম্ব, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে এবার আগের প্রাদুর্ভাবগুলোর তুলনায় দ্রুত ছড়িয়েছে ভাইরাসটি। দেশটির ২৬টি প্রদেশের মধ্যে আটটিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও পৌঁছেছে ভাইরাসটি।
গত সপ্তাহে নাইজেরিয়ায় ইবোলা শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়া ও উগান্ডাতেও আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে পশ্চিম ও পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের প্রাদুর্ভাবকে ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা সংক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকার গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ওই সময় ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ ও প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করছে। আক্রান্ত দেশগুলো থেকে আসা কিংবা সেসব দেশের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করা যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে শুক্রবার জানানো হয়, কেনিয়ার সঙ্গে যাতায়াত সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে রিয়াদ। সৌদি নাগরিকদের কেনিয়া ভ্রমণ বন্ধের পাশাপাশি দেশটির নাগরিকদের সব ধরনের ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ২১ দিনের মধ্যে কেনিয়া বা ইবোলায় আক্রান্ত অন্য কোনো দেশে অবস্থান করেছেন—এমন যাত্রীদের সৌদি আরবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে সৌদি আরবে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেও এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।