
ভারতের বিরোধী জোটের সমাবেশে বিপুল জনসমাগমের চিত্র তুলে ধরতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ব্যবহার করেছে কংগ্রেস— এমন অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। এ নিয়ে দলটিকে বিদ্রূপ করে তিনি বলেছেন, সমাবেশে বড় জনসমাগম দেখানোর জন্য কংগ্রেসকে কৃত্রিম ছবি তৈরি করতে হয়েছে। কিন্তু সেই কাজও তারা যথাযথভাবে করতে পারেনি।
রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন রিজিজু। পোস্টে কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বংশী গাড্ডাম ও দলের অন্য নেতাদের প্রকাশ করা জনসমাগমের একটি ছবি যুক্ত করেন তিনি।
পোস্টে রিজিজু লেখেন, ‘রামলীলা ময়দান পূর্ণ ছিল— এমনটা দেখাতে কংগ্রেসের ভুয়া বয়ান তৈরির দল যে এআই দিয়ে ছবিও বানিয়েছে, সেটিও ঠিকভাবে করতে পারেনি।’
একই ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন কংগ্রেসের সাবেক সংসদ সদস্য ও কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য জগদীশ ঠাকুর। পরে এক্স ব্যবহারকারীদের অনেকে ছবিটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলে শনাক্ত করেন। ছবিতে সমাবেশের মঞ্চে রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীকে দেখা গেলেও সেটির সঙ্গে সমাবেশস্থলের প্রকৃত মঞ্চের মিল নেই বলে অভিযোগ ওঠে।
শুরু থেকেই রোববারের সমাবেশকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির নেতারা সমাবেশস্থলের ফাঁকা চেয়ার দেখিয়ে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, রামলীলা ময়দানের অন্তত ৪০ শতাংশ স্থান ফাঁকা ছিল।
অন্যদিকে, সমাবেশের আগে কংগ্রেস জানিয়েছিল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে।
রোববার সন্ধ্যায় বিজেপির সংসদ সদস্য ও মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, ‘কংগ্রেস বলেছিল, ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। কিন্তু মাঠের ৪০ শতাংশই ফাঁকা ছিল।’
রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি বেশি দেখানোর জন্য ‘কৌশলে ছবি তোলা’ হয়েছে। তবে এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করে কাউকে প্রধানমন্ত্রী বানানো সম্ভব নয়।
বিজেপির এসব অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে সমাবেশস্থলে ড্রোন দিয়ে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করে কংগ্রেস। দলটির দাবি, কর্মসূচিতে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন।
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে রাহুল গান্ধী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে অবৈধ বলে অভিহিত করেন। তার অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকার কারণে নির্বাচনে ভোট চুরির ঘটনা ঘটেছে।
রাহুল বলেন, ‘এই ভোট চুরি কোনো সাধারণ চুরি নয়। এটি ভারতের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি। একে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয়।’
তিনি আরও দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্বে না থাকলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। নির্বাচনী অনিয়মে ভূমিকার জন্য জ্ঞানেশ কুমারকে কারাগারে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাহুলের বক্তব্যের জবাবে সম্বিত পাত্র বলেন, রামলীলা ময়দানে দাঁড়িয়ে নির্বাচনকে অবৈধ বললেই সেই অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয় না। নির্বাচন নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে যথাযথ সময়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পাত্র বলেন, ‘নির্বাচনের পরপরই চ্যালেঞ্জ জানাতে হয়, এভাবে নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচন অবৈধ— এমন অভিযোগে আপনারা যে আবেদন করেছেন, সেটি দেখান।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবেই রোববারের এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়। নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠার পর থেকে এ দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে বিরোধী দলগুলো।