
হ্যালোইন উৎসবের রাত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বন্দুক সহিংসতায় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছে। ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন স্থানে একের পর এক গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯৪ জন। নৈশক্লাব, পোশাকের দোকান, স্টেডিয়াম ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
রোববার (১ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের বিভিন্ন বিবৃতি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে হতাহতের এই হিসাব পাওয়া গেছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডেলাওয়ার পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে টেক্সাসের ডালাস শহরের ডিপ এলাম এলাকায় তিন দফা গুলিবর্ষণে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে অল্প সময়ের ব্যবধানে এসব হামলা চালানো হয়।
ডিপ এলাম ডালাসের পরিচিত বিনোদনকেন্দ্র। এলাকাটিতে রয়েছে অসংখ্য বার, রেস্তোরাঁ, সংগীত পরিবেশনার স্থান ও নৈশক্লাব। হ্যালোইন উপলক্ষে শনিবার রাতে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছিল।
ডালাস পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে এলম স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে রাত ১২টা ২০ মিনিটে। দ্বিতীয়বার রাত ১টা ৫ মিনিটে মেইন স্ট্রিটের একই ব্লকে এবং তৃতীয়বার রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সাউথ ক্রাউডাস স্ট্রিটের ২০০ ব্লকে গুলি চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, তিনটি ঘটনায় মোট ১৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ১৫ জনের কয়েকজনকে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যান। অন্যরা নিজেরাই হাসপাতালে পৌঁছান।
ডালাস পুলিশপ্রধান ড্যানিয়েল কোমো বলেন, হ্যালোইন উপলক্ষে আগে থেকেই অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এ কারণে গুলির খবর পাওয়ার পর আশপাশে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পেরেছেন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলেও পৃথক দুটি গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। এতে দুজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুজন অনিচ্ছাকৃতভাবে গুলির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।
শহরটির অন্য একটি স্থানে রোববার রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে একটি পার্টি চলছিল। একপর্যায়ে আয়োজনটি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানে গুলি চালানো হয়। এতে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন। নিহত হন ২০ বছর বয়সী এক তরুণ। আহত ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর অবস্থা স্থিতিশীল। আরেকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মিসিসিপির জ্যাকসনের একটি নৈশক্লাবে গুলিতে দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পোশাকের দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন চার সন্তানের জননী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। তাঁদের মধ্যে দুই কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওকলাহোমা সিটির একটি ট্রেলার পার্কে হ্যালোইন পার্টি চলাকালে গোলযোগের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। এ সময় এক ব্যক্তির পায়ে একাধিক গুলি লাগে। তিনি প্রাণে বেঁচে যাবেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। একই ঘটনায় গাড়ির ধাক্কায় দুজন নিহত হন। তবে তাঁদের মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকাগুলোতেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুই ডজনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
আলাবামার বার্মিংহামে লেজিয়ন ফিল্ড স্টেডিয়ামের বাইরে গুলিতে একজন নিহত ও আটজন আহত হন। এর আগে স্টেডিয়ামটিতে আলাবামা এঅ্যান্ডএম ও আলাবামা স্টেটের মধ্যে ‘ম্যাজিক সিটি ক্লাসিক’ নামে পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের কাছে গুলিবিদ্ধ আটজনকে সহায়তা করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থলেই ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত বাকি সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে ব্লুমিংটন পুলিশ।
ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ব্লুমিংটনে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের কাছেও গুলির শব্দ শোনেন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা। সেখানে হ্যালোইনের পাশাপাশি হোমকামিং উৎসব চলছিল। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় একাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে ধারণা পুলিশের।
এ ঘটনায় সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আটক ব্যক্তিই গুলি চালিয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার উদ্দেশ্য ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে তদন্ত চলছে।
ডেলাওয়ারের নিউয়ার্ক শহরে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের কাছেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেখানে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। আরকানসাসের ফায়েটভিলে গুলিতে আহত ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিরোধের জের ধরে সেখানে গুলি চালানো হয়।
হ্যালোইনসহ বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠানে বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এ ধরনের হামলা ঠেকাতে আগাম সতর্কতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জরুরি হলেও প্রতিটি জনসমাগমস্থলে পুলিশের উপস্থিত