
ঢাকার ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)কে আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ধার্য দিনে সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তরা শরীফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
১৯ ডিসেম্বর শহীদ হাদির মরদেহ দেশে আনা হয় এবং ২০ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে দাফন করা হয়।
হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটিতে হত্যা (ধারা ৩০২) যুক্ত করা হয় এবং তদন্তভার থানার পুলিশের থেকে ডিবি পুলিশের হাতে আসে।
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ড ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ এবং আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটে প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়।
প্রাথমিক তদন্তে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা হাদির নির্বাচনি প্রচারে বাধা দিতে এবং ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অভিযোগপত্রে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে।
এর মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষ পাঁচজন আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।