
নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে বড় সিদ্ধান্ত এলো। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এতে নোয়াখালী–৬ আসনে ১০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের পথ সুগম হলো।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও কৌশলগত বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক জানান, জোটের সিদ্ধান্ত ও দলের নির্দেশনার প্রতি আনুগত্য দেখাতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। নিজের দায়বদ্ধতা বজায় রেখে জোটপ্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে উপজেলা সদরে আয়োজিত ১০ দলীয় জোটের এক সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল হান্নান মাসউদকে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার বোরহানুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন জামায়াত মনোনীত হাতিয়া পৌরসভা মেয়র প্রার্থী শাব্বির আহমেদ তাফসীর।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন হাতিয়া উপজেলা খেলাফত আন্দোলনের সদস্য সচিব মুফতি ইছমাইল হোসাইন, খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি মাওলানা ইউনুছ সাঈফী, এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক শামছল তিব্রীজ, এলডিপির প্রার্থী আবুল হোসেন বাবুল, জামায়াত প্রার্থী মাহফুজুল হক এবং ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে ভোটাধিকার হরণে জড়িত কিছু ব্যক্তি এখনো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এ ধরনের ব্যক্তিরা যেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব না পান—সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এলডিপির আবুল হোসেন বাবুল বলেন, গত ১৭ বছর দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ অনুপস্থিত ছিল। নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভোটকে ঘিরে যে উৎসবমুখর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা নস্যাৎ করার অপচেষ্টা চলছে। তিনি এলডিপির পক্ষ থেকে হান্নান মাসউদকে পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দেন।
শাহ মাহফুজুল হক বলেন, গত ১৭ বছরে মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার হরণ করে বিরোধী কণ্ঠ রোধ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছে।
জোটপ্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ১০ দলীয় জোট ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করছে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এক হয়ে শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও আধুনিক হাতিয়া গড়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি অতীতে অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নন—এমন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা শাহ মিজানুল হক, জাতীয় যুবশক্তির উপজেলা আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আশিক এলাহীসহ ১০ দলীয় জোটের বিভিন্ন শরিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।