
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সারাদেশে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ২৭৪টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে, এতে নিহত হয়েছেন ৫ জন।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সহিংস ঘটনাগুলোকে মোট ১১টি শ্রেণিতে (ক্যাটাগরি) ভাগ করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সহিংসতা ঘটেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে—এ ধরনের ঘটনা হয়েছে ৮৯টি।
সহিংসতার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারকাজে বাধা দেওয়া—এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ২৯টি। তৃতীয় সর্বোচ্চ সহিংসতা হয়েছে নির্বাচনী অফিস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ—মোট ২০টি ঘটনা।
এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রার্থীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। একই সময়ে ভীতি প্রদর্শন বা আক্রমণাত্মক আচরণ হয়েছে ১৬টি। এ সময় ৩টি ঘটনায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং ৯টি ঘটনায় হুমকি দেওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা হয়েছে ১টি। আর বিক্ষোভ বা অবরোধের ঘটনা ঘটেছে ১৭টি।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে ‘অন্যান্য’ ক্যাটাগরিতে আরও ৭০টি ঘটনা উল্লেখ করা হলেও, সেগুলো ঠিক কী ধরনের সহিংসতা—তা স্পষ্ট করা হয়নি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আগের তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সহিংসতার পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ৫৩০টি সহিংস ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ওই সময় ১১৫ জন নিহত এবং ৩১৫ জন আহত হন।
এ ছাড়া ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ৪১৪টি সহিংস ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ৭৮০ জন আহত হন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ৫৩৪টি সহিংস ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ৪৬০ জন আহত হওয়ার তথ্যও বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়েছে।