
একটি নির্বাচন কতটা ‘অংশগ্রহণমূলক’—তা কেবল ভোটার উপস্থিতির শতকরা হার দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না বলে মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। তাদের মতে, সমাজের সব প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর অংশগ্রহণই এ ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয়।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে মিশনের প্রধান আইভার্স আইজাবস এ অবস্থান তুলে ধরেন। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মোট ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
আওয়ামী লীগকে বাদ রেখে নির্বাচন কতটা ‘অংশগ্রহণমূলক’ হয়েছে—এমন প্রশ্ন তিনজন সংবাদকর্মী করেন। জবাবে আইভার্স আইজাবস বলেন, “রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে যে প্রশ্নটি করা হয়েছে, তা নিয়ে আমি এটি এভাবে বলতে পারি, আমরা এখানে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে এসেছি। আমাদের আগ্রহের বিষয় হলো নির্বাচনের প্রক্রিয়া।
“এর বাইরে ‘ট্রানজিশনাল জাস্টিস’ বা রূপান্তরমূলক বিচার ব্যবস্থা অনেক দেশের জন্য একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং সংবেদনশীল বিষয়। এর মধ্যে অনেক ইউরোপীয় দেশও রয়েছে। তবে অবশ্যই নির্বাচন হলো সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ।
“এই নির্বাচনে আমরা যা পর্যবেক্ষণ করেছি তা হলো, এটি ‘অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক’ ছিল এবং ২ হাজার প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোটারদের সামনে পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল ব্যাপক। সেই অর্থে আমি মনে করি এটি (নির্বাচন) বাংলাদেশি গণতন্ত্রের জন্য সত্যিই ‘একটি অগ্রগতির পথ’।”
পরবর্তীতে আরেক সাংবাদিক ভোটের হার প্রসঙ্গ তুলে জানতে চান, এ হার কি সব মত ও পথের মানুষের অংশগ্রহণকে প্রতিফলিত করে? জবাবে তিনি বলেন, “উপস্থিতির বিষয়ে আমরা সবাই জানি যে বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে এটি কখনো বেশি, আবার কখনো কম হয়েছে। সেই অর্থে আমরা দেখছি যে এই বিশেষ ফল মোটামুটি মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। আমরা উপস্থিতিকে কেবল শতাংশের দিক থেকে দেখছি না।
“কারণ আপনারা সবাই জানেন যে ইউরোপসহ অনেক গণতান্ত্রিক দেশেই ভোটার উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। এটি সব গণতন্ত্রের জন্যই একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। তাই সংখ্যাই সব নয়।
“আর আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো, সমাজের সব প্রাসঙ্গিক গোষ্ঠী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে কিনা এবং কাউকে বাদ দেওয়া হচ্ছে কিনা। আমি যেমনটি বলেছি, এই অর্থে অংশগ্রহণমূলক মানে সব রাজনৈতিক এবং সামাজিক গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা, যারা নির্বাচনে তাদের স্বার্থ প্রকাশ করতে চায়। তাই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বলার সময় কেবল ভোটার উপস্থিতির হারই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়।”
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি; তাদের দলীয় প্রতীকও ব্যালট পেপারে ছিল না।