
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৪ আসনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছেন মো. নুরুল ইসলাম নয়ন। ভোলা জেলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে তিনি বরিশাল বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে এবং জাতীয়ভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩৭ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯১৪।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বিজয় শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং চরফ্যাশন-মনপুরার জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ।
শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক পথচলা
মো. নুরুল ইসলাম নয়ন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইংরেজি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মেধা ও নেতৃত্বগুণের জন্য পরিচিত ছিলেন।
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক এবং সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে বিএনপির ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও জনসম্পৃক্ততায় সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।
ভোলা-৩ আসনেও বিএনপির বড় জয়
একই জেলায় ভোলা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট পার্টির নিজামুল হক ফুলকপি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৩৫১ ভোট। এখানে ভোটের ব্যবধান ৮৮ হাজার ৬৩৯।
ভোলা জেলার দুটি আসনে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় বরিশাল বিভাগে বিএনপির অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নয়নের রেকর্ড ব্যবধানের জয় আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।