
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও থামেনি পদ্মায় বাস ডুবির উদ্ধার তৎপরতা। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার পর কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশ একযোগে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখনও প্রায় ৩৩ জন যাত্রীর মরদেহ পানির নিচে রয়ে গেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল পাঁচটার দিকে ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের দুইজন ডুবুরি ও দুইজন সহকারী ডুবুরি যুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি পাঁচ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাসের ভেতরে এখনও বহু যাত্রী আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, এখন পর্যন্ত দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ফেরিঘাটে পৌঁছালে একটি ফেরির পন্টুনে জোরে ধাক্কা লাগে। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর পাঁচ থেকে সাতজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে বাসের ভেতরে থাকা অন্য যাত্রীদের অবস্থার বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। বর্তমানে কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সমন্বিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।