
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ বাসডুবির ঘটনায় বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে একে একে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৬ জনে, যাদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুরা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর সর্বশেষ এই তথ্য নিশ্চিত করে। দুর্ঘটনায় মোট আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও তাদের মধ্যে দুই নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, বুধবার বিকাল প্রায় ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ৬০ ফুট গভীরে ডুবে যাওয়া বাসটি রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা বাসের ভেতর থেকে ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। এদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে, যাদের মধ্যে চারজন ছেলে ও একজন মেয়ে।
উদ্ধার হওয়া মোট ২৬ মরদেহের মধ্যে ২৩টি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার করেন। স্থানীয়রা দুইজনকে জীবিত অবস্থায় তুললেও পরে হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া নৌবাহিনীর ডুবুরিরা একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ও ১০ জন ডুবুরি অংশ নেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে তৎপরতা চালান।
রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. রাসেল মোল্লা জানান, উদ্ধার করা মরদেহগুলো রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “মরদেহ শনাক্তের পর জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
তিনি আরও জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ডুবে যাওয়া বাসটিকে পানির নিচ থেকে তুলে আনে।
এদিকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।
অন্যদিকে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আরেকটি কমিটিও একই সময়সীমার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
রাজিব আহসান বলেন, “বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের যৌথ তৎপরতা পরদিন দিনের আলোয় আরও বিস্তৃত এলাকায় তল্লাশি চালানো হবে। নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে, যা পরদিন প্রকাশ করা হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, মরদেহ শনাক্তের পর তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি মরদেহের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে, যা কেবল দাফন কাজে ব্যয় করা যাবে। এছাড়া আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।