
অনলাইন প্রতারণার জালে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থের একটি বড় অংশ উদ্ধার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই) গ্রুপের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া প্রায় ৩৬ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ইতোমধ্যে দেশে ফেরত আনা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সিআইডির প্রধান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানান, উদ্ধার করা অর্থ সোনালী ব্যাংকে সিআইডির হিসাবে জমা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
সিআইডির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রতিষ্ঠান অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেড গত ১৪ মার্চ এই অর্থ জমা দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ ঢাকায় সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুবাইভিত্তিক এমটিএফই একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিতে পরিচালিত হতো। অ্যাপভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে ব্যাপক সংখ্যক ব্যবহারকারীকে ফাঁদে ফেলে।
সিআইডি জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করত। ২০২২ সালের জুনে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে তারা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে ‘ঘরে বসে আয়’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ২০২৩ সালের শুরুতে এর কার্যক্রম আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে।
ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে ভার্চ্যুয়াল ডলারের আকারে অর্থ দেখানো হলেও বাস্তবে তা ছিল কৃত্রিম। দেশে কোনো কার্যালয় না থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে অফিস খোলে।
এই প্রতারণার বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করেন মারুফ রহমান মাহিম নামের এক ব্যক্তি, যিনি ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট খিলগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগ দায়ের করেন। মামলায় এমটিএফই বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাসুদ আলম, এজেন্ট মোবাশিরুল এবাদসহ ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, প্ল্যাটফর্মটির ট্রেডিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভুয়া ছিল। কৃত্রিমভাবে লাভের হিসাব দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হতো। শুরুতে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে আস্থা তৈরি করা হলেও ২০২৩ সালের মাঝামাঝি হঠাৎ করেই অর্থ উত্তোলন বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
সিআইডি কর্মকর্তারা আরও জানান, ব্যবহারকারীদের দেখানো ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না। গ্রাহকদের অর্থ বিভিন্ন ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় হিসাবে জমা করে পরে তা বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে স্থানান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো।