
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীর প্রতি ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের সর্বজনীন উৎসব, যা জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলিয়ে সবাইকে এক সুতোয় গাঁথে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই উৎসব আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল প্রতীক। বৈশাখের আগমনে মানুষের মনে জাগে নতুন আশা, প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনার স্বপ্ন। অতীতের গ্লানি ও ব্যর্থতা পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয় এ দিন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মুঘল আমলে প্রবর্তিত ফসলি সনের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় নববর্ষে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগকে তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে কৃষি খাতের উন্নয়ন ও কৃষকের জীবনমান বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নানা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে সংযমী, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, নববর্ষের এই আনন্দঘন মুহূর্তে সকল অশুভ শক্তি দূর হয়ে সত্য ও সুন্দর প্রতিষ্ঠিত হোক। নতুন বছর সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে একটি অসাম্প্রদায়িক, ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।