
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্পর্ককে “অকৃত্রিম বন্ধুত্ব” হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সে সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভেটো প্রদান করেছিল, যা বন্ধুত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করতে সোভিয়েত সরকার সহযোগিতা করে, যার ফলে দ্রুত বন্দরটি সচল হয়। ওই মাইন অপসারণ অভিযানে এক সোভিয়েত নাগরিক প্রাণ হারান বলেও তিনি স্মরণ করেন।
স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ সরকার রাশিয়ার এসব অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, মানবসম্পদ, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এর প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত হবে।
তিনি স্পিকারকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।
স্পিকার এ সময় দুই দেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ পুনর্গঠন এবং প্রতিনিধি দল বিনিময় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাশিয়ান দূতাবাসের প্রতিনিধি ও সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
