
প্রযুক্তির ক্ষতিকর আসক্তি আর মাদকের থাবা থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের রূপরেখা তৈরি করছে সরকার। প্রাথমিক স্তরের খুদে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে আগামীতে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নতুন শিক্ষাক্রমে সুনির্দিষ্ট ৮টি খেলার ইভেন্ট যুক্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতির সফল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই সময়োপযোগী ক্রীড়া পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঠবিমুখতা ও ডিজিটাল ডিভাইসের মোহ থেকে দূরে রেখে একটি সুস্থ, সবল ও কর্মঠ জাতি গঠন করা।
উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন ও আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক
এই নতুন পরিকল্পনার প্রাথমিক সুপারিশমালা তৈরি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা সাজাতে ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান (আহ্বায়ক) করে উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৬ মে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই নীতি-নির্ধারণী সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, দুই মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিবগণ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের শীর্ষস্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'-এ যে ৮টি খেলা বাধ্যতামূলক হচ্ছে
যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিতে মোট আটটি জনপ্রিয় ও শারীরিক কসরতপূর্ণ খেলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই ইভেন্টগুলো হলো:
ফুটবল
ক্রিকেট
কাবাডি
মার্শাল আর্ট অথবা ভলিবল
অ্যাথলেটিক্স
ব্যাডমিন্টন
দাবা
সাঁতার
জুন মাসের মধ্যে সুপারিশ ও বিশাল শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা
অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাক্রমে ক্রীড়াকে স্থায়ীভাবে যুক্ত করার জন্য সুনির্দিষ্ট পাঠ্যসূচি এবং সময়াবদ্ধ একটি আধুনিক গাইডলাইন তৈরি করবে সদ্য গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি। একই সঙ্গে আগামী ১০ জুনের মধ্যে এই কমিটিকে বিস্তারিত রূপরেখাসহ তাদের প্রাথমিক সুপারিশমালা সরকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এই বিশাল ও দেশব্যাপী বিস্তৃত ক্রীড়া কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে সফল করতে বড় ধরনের জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। জানা গেছে, দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৮টি ইভেন্টের প্রতিটির জন্য ৩ জন করে সারা দেশে সর্বমোট ১১ হাজার ৮৮০টি পদে বিষয়ভিত্তিক দক্ষ ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন করে ৪৯৫ জন উপজেলা ক্রীড়া অফিসার নিয়োগের প্রক্রিয়াও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।