
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্যে যুক্ত হলো আরও একটি গৌরবময় পালক। ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মেয়াদের জন্য কমনওয়েলথ বোর্ড অব গভর্নরসের অত্যন্ত প্রভাবশালী ‘কার্যনির্বাহী কমিটির’ (এক্সকো) সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২০ মে) যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত কমনওয়েলথ সচিবালয়ে আয়োজিত বোর্ড অব গভর্নরসের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এশিয়া-ইউরোপ অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশকে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে বেছে নেওয়া হয়।
লন্ডনে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথের এই উচ্চপর্যায়ের সভায় বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার নজরুল ইসলাম।
কমনওয়েলথ কার্যনির্বাহী কমিটির গঠন ও মূল কাজ
কমনওয়েলথের এই নীতিনির্ধারক কার্যনির্বাহী কমিটিটি সর্বমোট ১৬টি সদস্য দেশের সমন্বয়ে গঠিত। এই কমিটির অভ্যন্তরীণ আসন বণ্টনের নিয়মটি নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
নির্ধারিত আসন (৮টি): কমনওয়েলথ ফান্ডে সবচেয়ে বেশি আর্থিক অনুদান বা অবদান রাখা শীর্ষ আটটি রাষ্ট্রের জন্য এই সদস্যপদগুলো স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে।
নির্বাচিত আসন (৮টি): বাকি আটটি সদস্যপদ কমনওয়েলথের অন্তর্ভুক্ত চারটি পৃথক আঞ্চলিক গ্রুপ থেকে গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমে পূরণ করা হয়ে থাকে। এই কোটা থেকেই এবার এশিয়া-ইউরোপ অঞ্চলের হয়ে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
কমনওয়েলথ সচিবালয়ের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এবং জনবল কাঠামো বা মানবসম্পদ সংক্রান্ত নীতিমালার ওপর সরাসরি নজরদারি ও তদারকি করে থাকে এই কার্যনির্বাহী কমিটি।
এর পাশাপাশি, সংস্থাটির মূল চালিকাশক্তি 'বোর্ড অব গভর্নরস'-এর জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সুপারিশমালা প্রণয়নের গুরুদায়িত্বও পালন করে এই এক্সকো। একই সঙ্গে কমনওয়েলথের আওতাধীন নতুন ও বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার (এওএস) সদস্যপদ পাওয়ার আবেদনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করার চূড়ান্ত কাজটিও এই কমিটির মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হয়।