
কূটনৈতিক সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার অংশ হিসেবে ঢাকা সফরের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও অংশ নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যকার এই আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য পূর্বে নির্ধারিত নির্দিষ্ট কোনো আলোচ্যসূচি (এজেন্ডা) না থাকলেও দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় এখানে স্থান পাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দ্বিমুখী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা সংলাপ এবং সমসাময়িক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে দুই দেশের অবস্থান সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলো এই বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, তিন দিনের এই সফরের শেষ দিন অর্থাৎ আগামী শনিবার (৬ জুন) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া ওই দিনই তাঁর দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পূর্বে, আগামীকাল শনিবার তাঁর কক্সবাজারে অবস্থানরত বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক বা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিগত ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশের মাটিতে এটিই তুরস্কের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সফর, যা দুই দেশের ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।