
পবিত্র হজের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করে সৌদি আরব থেকে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসতে শুরু করেছেন বাংলাদেশি হাজিরা। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজ শনিবার (৬ জুন) পর্যন্ত মোট ৭৮টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন ৩২ হাজার ৮৩২ জন হাজি।
তবে আনন্দের এই আবহের মধ্যেই রয়েছে এক বেদনাবিধুর খবর। চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে পবিত্র ভূমি জিয়ারত ও হজ পালনকালে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৪৮ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃতদের তালিকা বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এর মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১৬ জন নারী রয়েছেন। স্থানভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, মক্কায় চিকিৎসাধীন বা অবস্থানকালে সর্বোচ্চ ৩৫ জন, মদিনায় ১২ জন এবং জেদ্দায় একজন হাজি মারা গেছেন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত হজ বুলেটিনের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত স্বদেশে ফিরে আসা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার অধীনে এসেছেন ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ২৯ হাজার ৫০৪ জন।
ফিরে আসা এই বিপুলসংখ্যক হাজিকে নিরাপদে আকাশপথে বহন করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১১ হাজার ৫৭抢 জন, সৌদি এয়ারলাইনস ১২ হাজার ৫৫৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৭ হাজার ৭০০ জন হাজিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছে। এর বাইরে অন্যান্য এয়ারলাইনসের বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে আরও ৯৯৪ জন হজযাত্রী সৌদি আরব ত্যাগ করে দেশে এসে পৌঁছেছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যম মিলিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৫০০-এর বেশি হজযাত্রীর জন্য কোটা নির্ধারিত ছিল। পবিত্র হজের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের প্রথম সৌদি গমন শুরু হয়েছিল গত ১৮ এপ্রিল এবং সৌদির উদ্দেশ্যে শেষ ফিরতি ফ্লাইটটি দেশ ছাড়ে ২১ মে।
এদিকে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাকি হাজিদের চিকিৎসা ও সার্বিক সেবাদান কার্যক্রম এখনো পুরোদমে সচল রাখা হয়েছে। জেদ্দা ও মক্কায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ মিশনের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজার ২০২টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র (ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন) হাজিদের প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের ডিজিটাল সেবার আওতায় ২৬ হাজার ৩৫টি বিভিন্ন ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সৌদি আরবের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। তাদের উন্নত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হাজিদের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হজ মিশন, সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো এবং অন্যান্য অংশীজন প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ৩০ জুন হজের শেষ ফিরতি ফ্লাইটটি পরিচালনার মাধ্যমে চলতি বছরের হজযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনার পুরো কার্যক্রমটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।