
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাস। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে রাজধানীতে এক বর্ণাঢ্য সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিহুল্লাহ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, এবং এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, থিংক ট্যাংক ও শিক্ষাঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা।
সেমিনারে নিজের বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সিপিসির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চীনের প্রেসিডেন্ট ও সিপিসির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিংয়ের দেওয়া একটি তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য সবার সামনে উপস্থাপন করেন।
এ সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর একটি বিএনপির সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উন্নয়নের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় সিপিসি ও বিএনপির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে, যা দুই দলের মধ্যে বিনিময় ও সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চার করবে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাগুলো বাস্তবে রূপ দিতে এবং রাষ্ট্র পরিচালনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের সব বন্ধুপ্রতিম রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে সিপিসি সর্বদা প্রস্তুত। এর মাধ্যমে দুই দেশের সাধারণ মানুষ আরও বেশি সুফল পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। সেই সঙ্গে আগামী দিনে এক নতুন যুগে ‘চীন-বাংলাদেশ অভিন্ন ভবিষ্যতের কমিউনিটি’ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দুই রাষ্ট্র কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে বলে যৌথ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।