
যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক নাগরিকত্ব ও আবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স’ প্রকাশিত সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচকে বৈশ্বিক পাসপোর্টের শক্তি ও আন্তর্জাতিক চলাচলের ক্ষমতার নতুন চিত্র সামনে এসেছে। বিশ্বের ১৯৯টি দেশ ও ভূখণ্ডের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্যের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শক্তিশালী পাসপোর্টের তকমা যথারীতি ধরে রেখেছে এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুর। দেশটির অধিবাসীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের রেকর্ড ১৯২টি দেশে অনায়াসে যাতায়াত করতে পারেন। অন্যদিকে, সূচকের সর্বনিম্ন অর্থাৎ তলানিতে অবস্থান করছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান, যাদের নাগরিকরা মাত্র ২২টি গন্তব্যে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পান। এছাড়া আফ্রিকার দেশ উগান্ডার পাসপোর্টধারীদের জন্য বিশ্বের ৬৫টি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে তিন ধাপ এগিয়ে ৯৭তম স্থানে উন্নীত হলেও, বাস্তবে এ দেশের পাসপোর্টের কার্যকারিতা ও বিশ্বব্যাপী ভ্রমণের সুবিধা দিন দিন আরও সংকুচিত হয়ে আসছে। হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকেরা বর্তমানে পৃথিবীর মাত্র ৩৫টি দেশে ভিসামুক্ত অথবা পৌঁছানোর পর (অন-অ্যারাইভাল) ভিসা পাওয়ার সুবিধা ভোগ করছেন, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেশ উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশি পাসপোর্টের এই গতিহীনতা ও সুবিধা কমার প্রবণতা বেশ কিছুদিনের। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের প্রথমভাগে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ৪২টি দেশে বিনা ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ পেতেন। ২০২৫ সালের গোড়ার দিকে সেই সংখ্যা কমে ৩৯টিতে দাঁড়ায় এবং ২০২৬ সালের সূচনার দিকে তা নেমে আসে ৩৭টিতে। সর্বশেষ সূচকে আরও দুটি দেশ এই সুবিধা বাতিল করায় বর্তমানে তা ৩৫টি দেশে এসে ঠেকেছে। মাত্র আড়াই বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভ্রমণের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বাধীন চলাচলের সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়ল।