
গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বিদায়ী রাষ্ট্রপতির শারীরিক অক্ষমতাকে পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্পিকার বলেন, ‘তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) শারীরিক অসামর্থ্যের কারণে পদত্যাগ করেছেন। তা গ্রহণ করা হয়েছে। আমি তার মঙ্গল কামনা করছি।’
মো. সাহাবুদ্দিনের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার মনে হয়, উনি মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি সবসময় সমর্থন ও শ্রদ্ধাশীল প্রকাশ করেছেন।’
এর আগে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
পদত্যাগপত্রে নিজের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথিক’ রোগ শনাক্ত হয়েছে। এর কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’