
কুষ্টিয়ার মিরপুরের মেয়ে নীলিমা হাকিম মৌ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটায় (Meta) ভাষা প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ভাষাবিজ্ঞান, গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে তাঁর এই অর্জনে গর্বিত মিরপুরবাসী। একই সঙ্গে তাঁর সাফল্য উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আগ্রহী তরুণদের জন্যও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
নীলিমা হাকিম মৌ উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের গুয়াবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের জ্যেষ্ঠ কন্যা। তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু আমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে আমলা জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং আমলা সরকারি কলেজ ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে শুরু হয় তাঁর উচ্চশিক্ষার পথচলা। ২০১৬ সালে স্নাতক (সম্মান) এবং ২০১৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য পরে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে।
বর্তমানে জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটিতে ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি গবেষক হিসেবে কাজ করছেন নীলিমা। ভাষা সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবন, সমাজভাষাবিজ্ঞান, গণনামূলক ভাষাবিজ্ঞান, দ্বিতীয় ভাষা অর্জন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর লেখালেখি তাঁর গবেষণার উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র।
ভাষাবিজ্ঞানকে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুক্ত করে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও প্রকাশনার কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ভিজিটরসে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
মেটায় ভাষা প্রকৌশলী হিসেবে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রযুক্তির এই যুগে ভাষাবিজ্ঞানের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বও সামনে এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম), স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ এবং বহুভাষিক প্রযুক্তির উন্নয়নে ভাষাবিজ্ঞানের জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নীলিমা হাকিম মৌয়ের এই অর্জন তাঁর পরিবার ও মিরপুরের পাশাপাশি কুষ্টিয়াবাসীর জন্যও গর্বের। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী, গবেষক এবং উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী তরুণদের জন্য তাঁর শিক্ষাজীবন ও গবেষণার পথচলা নিঃসন্দেহে একটি অনুপ্রেরণাদায়ী উদাহরণ