
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। রাজনৈতিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে আলোচনা, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের কারণে এবারের অধিবেশন ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বুধবার (২৬ আগস্ট) জানান, অধিবেশনটি ৫, ৭ অথবা ১০ দিন চলতে পারে। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে সময় আরও বাড়ানো হবে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের পাশাপাশি গঠন করা হবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ কোনো ইস্যু উত্থাপন করলে সেটি নিয়েও আলোচনা হবে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে ওই দিন দুপুর ২টায় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় অধিবেশন ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনেই গত ১১ আগস্ট তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী, দুটি অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতি ৬০ দিনের বেশি হওয়ার সুযোগ নেই।
এর আগে ১৫ জুলাই সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয়েছিল। ফলে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন অধিবেশন শুরু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কর্মসূচি থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিবেশন শুরু করা হচ্ছে। অধিবেশন শেষে ২১ সেপ্টেম্বর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সম্মেলনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন সংসদে উত্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) আইন এবং র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের আইনও বিল আকারে শিগগির সংসদে জমা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, এসব বিল উত্থাপনের পর চলতি অধিবেশনেই পাস হতে পারে।
অধিবেশন শুরুর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিএনপিদলীয় সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ জনদুর্ভোগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অধিবেশনে সরব হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী দলের সদস্যরা।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থায় দলীয় নিয়োগের অভিযোগ নিয়েও বিরোধী দল সংসদে প্রশ্ন তুলতে পারে।
জুলাই সনদ অনুযায়ী ১৪টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি বর্জন করায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের সঙ্গে এ বিষয়টি সম্পর্কিত।
আগামীকাল তৃতীয় অধিবেশনেই সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠনের কথা রয়েছে। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, বিরোধী দল সংবিধান সংস্কার কমিটিতে সদস্য না দেওয়ায় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ তাদের কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে সরকার বিরোধী দলকে কমিটিতে রাখতে চায় বলেও জানান তিনি।
অধিবেশনকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধিবেশন নির্বিঘ্ন রাখতে সংসদ ভবন ও সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহনের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের জনসমাগমমূলক কার্যক্রমও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১২টা থেকে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে এবং অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।