
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও নতুন উচ্চতায় নিতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান।
তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) মতো একটি কৌশলগত কাঠামো নিয়ে দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দিকে এগোচ্ছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) আয়োজিত ‘টুয়ার্ডস এ স্ট্রংগার বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া পার্টনারশিপ’ শীর্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
এ ছাড়া বিএমসিসিআইয়ের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বলেন, কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে উষ্ণ ও অনন্য সম্পর্ক বিদ্যমান। ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা, শিক্ষা এবং অভিন্ন অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন গতি দিয়েছে উল্লেখ করে মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান বলেন, মালয়েশিয়া ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য।
তিনি বলেন, এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।
মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান বলেন, ওই সফর কেবল একটি কূটনৈতিক মাইলফলক নয়; বরং প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও ব্যাপক অংশীদারত্বে উন্নীত করার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সদিচ্ছারও প্রতিফলন।
তিনি জানান, উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রম সহযোগিতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, সেমিকন্ডাক্টর, হালাল শিল্প, উৎপাদন, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃষি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে দুই পক্ষের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
হাইকমিশনার বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব দুই দেশের সম্পর্কে যে গতি তৈরি করেছে, সেটিকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিএমসিসিআইয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বড় ও তরুণ জনগোষ্ঠী, সম্প্রসারিত ভোক্তা বাজার এবং ক্রমবর্ধমান শিল্পভিত্তি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করছে। একইভাবে মালয়েশিয়াও বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও বৃহত্তর আসিয়ান বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।
দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে বিএমসিসিআই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোকে বাস্তব বাণিজ্যিক সুযোগ এবং অংশীদারত্বে রূপান্তর করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন হাইকমিশনার।
তিনি জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিনিয়োগ বিষয়ে একটি ভার্চুয়াল সেমিনারের আয়োজন করেছে মালয়েশিয়ার হাইকমিশন। এর দুই সপ্তাহ আগে ঢাকায় বৈশ্বিক হালাল অর্থনীতি নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ওই আয়োজনে বিপুলসংখ্যক শিল্পোদ্যোক্তা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, হালাল শিল্পে মালয়েশিয়া যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা বাংলাদেশের জন্যও অনুসরণীয়। মালয়েশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই শিল্পের বিকাশে কাজ করতে পারে।
মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশিদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটির খাবার এবং হোটেল খরচ মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের মধ্যে রয়েছে।
বিএমসিসিআইয়ের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আনোয়ার শহীদ বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে বিএমসিসিআই কাজ করে যাবে।
নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদকে অভিনন্দন জানিয়ে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বলেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে বিএমসিসিআই বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বর্তমান শক্তিশালী রাজনৈতিক গতি, সক্রিয় বেসরকারি খাত এবং বিএমসিসিআইয়ের মতো প্রতিশ্রুতিশীল অংশীদারদের কারণে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অংশীদারত্বের সবচেয়ে ভালো সময় সামনে অপেক্ষা করছে।