
বাংলাদেশে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। সংখ্যাটি প্রতিদিনের হিসাবে গড়ে ৭৫টির বেশি অভিযোগের সমান। তবে এই ১৫ হাজার ৭১৭ সংখ্যাকে বর্তমানে নিখোঁজ থাকা শিশুর সংখ্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, এসব জিডির একটি বড় অংশের শিশু পরবর্তী সময়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাটি হলো—কতজন শিশু ফিরে এসেছে, কতজন এখনো নিখোঁজ, কতজন অপহরণ বা পাচারের শিকার হয়েছে কিংবা কোন কোন ঘটনায় অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, তার পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত জাতীয় হিসাব সরকারের কাছে নেই।
ফলে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানটি যেমন উদ্বেগ তৈরি করছে, তেমনি এই সংখ্যার প্রকৃত অর্থ কী—সেটিও স্পষ্টভাবে বোঝা জরুরি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিটি জিডির অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট শিশুটি এখনো নিখোঁজ।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো শিশু হারিয়ে গেলে পরিবারের সদস্যরা থানায় জিডি করেন। পরে এসব শিশুর একটি বড় অংশ পরিবারের কাছে ফিরে আসে। কিন্তু ফিরে আসা শিশুদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সরকারের হাতে নেই।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ঠিক কত শিশু আর ফিরে আসেনি, সেই পূর্ণাঙ্গ তথ্য এই মুহূর্তে সরকারের কাছে নেই। ফলে ১৫ হাজার ৭১৭ জিডিকে ১৫ হাজার ৭১৭ স্থায়ীভাবে নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা হিসেবে উপস্থাপন করলে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
আগের সাত মাসেও ছিল ১৩ হাজার ৮৭৬ জিডি
সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডির সংখ্যা হঠাৎ করেই শূন্য থেকে ১৫ হাজারে পৌঁছায়নি।
২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর—এই সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ১৩ হাজার ৮৭৬টি জিডি হয়েছিল। এর পরের সাত মাসে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে হয়েছে ১৫ হাজার ৭১৭টি।
দুই সময়ের মধ্যে জিডির সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৮৪১টি। অর্থাৎ প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে। তবে তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিসংখ্যানকে রাতারাতি তৈরি হওয়া নতুন কোনো সংকটের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ আগের সাত মাসেও কাছাকাছি মাত্রায় শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছিল।
একই ব্রিফিংয়ে প্রাপ্তবয়স্ক নিখোঁজের হিসাবও তুলে ধরা হয়। চলতি সাত মাসে প্রাপ্তবয়স্ক নিখোঁজের ঘটনায় ১৩ হাজার ৫৮০টি জিডি হয়েছে। এর আগের সাত মাসে এ সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৩টি। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও দুই সময়ের সংখ্যা কাছাকাছি।
তবে সরকার যে প্রতিটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি উদ্বেগের নয়—এমনটা বলা হচ্ছে না; বরং পরিসংখ্যানের প্রকৃত অর্থ বুঝে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে।
তাহলে মূল সংকট কোথায়?
একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার থানায় জিডি করতে পারে। পরে শিশুটি নিজে থেকে বাড়ি ফিরতে পারে, পরিবার তাকে খুঁজে পেতে পারে অথবা পুলিশ কিংবা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে উদ্ধার হতে পারে। কিন্তু এসব ঘটনার পর সব পরিবার যে আবার থানায় গিয়ে আগের জিডির বিষয়ে জানায়, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ফলে একটি জিডি দীর্ঘদিন নথিতে থেকে যেতে পারে, যদিও শিশুটি ইতোমধ্যে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে।
অন্যদিকে, যদি কোনো শিশু দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকে, তাকে খুঁজে বের করার জন্য নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্য, থানার জিডি, হাসপাতাল, অজ্ঞাত মরদেহ, শিশু সুরক্ষা সংস্থা এবং সম্ভাব্য মানবপাচারসংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। এই জায়গাতেই পূর্ণাঙ্গ জাতীয় তথ্যভান্ডারের ঘাটতি বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
এ কারণে ‘কত শিশু নিখোঁজ হয়েছে’—এই প্রশ্নের পাশাপাশি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় ‘কতজন ফিরে এসেছে এবং কতজনের কোনো সন্ধান মেলেনি’।
নিখোঁজ শিশু ও মানবপাচারের ঝুঁকি
শিশু নিখোঁজ হওয়ার প্রতিটি ঘটনা যে মানবপাচারের ঘটনা—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। আবার কোনো নিখোঁজ শিশুই পাচারের ঝুঁকিতে নেই—এমনটিও বলা যায় না।
জাতিসংঘ শিশু তহবিলের বাংলাদেশবিষয়ক সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নারী ও শিশু মানবপাচারের ঝুঁকি এখনো গুরুতর। দারিদ্র্য, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি, অনিরাপদ অভিবাসন এবং ক্ষতিকর সামাজিক বাস্তবতা শিশুদের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাচারের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক শ্রম, যৌন শোষণ, শিশুবিয়ে এবং অনিরাপদ অভিবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের শোষণের আশঙ্কা রয়েছে।
তবে বর্তমান ১৫ হাজার ৭১৭ জিডির সঙ্গে কতটি মানবপাচারের ঘটনা সরাসরি সম্পর্কিত—এমন কোনো সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তাই জিডির সংখ্যা ও মানবপাচারের সংখ্যা এক করে দেখার সুযোগ নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে
শিশু নিখোঁজ হওয়ার ক্ষেত্রে পরিচিতজন, অপরিচিত ব্যক্তি, স্থানীয় যোগাযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও একটি নতুন ঝুঁকির ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউনিসেফ বাংলাদেশ সতর্ক করে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের পর ১১ বছর বয়সী এক মেয়ে নিখোঁজ হয়েছিল। পরে তাকে বাড়ি থেকে অনেক দূরের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা, অভিভাবকের নজরদারি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।
ইউনিসেফের বক্তব্য ছিল, শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে এখনো বিকাশের পর্যায়ে থাকে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় তারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তাদের সুরক্ষা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
শুধু নিখোঁজের ঘটনা নয়, ঝুঁকিতে পথশিশুরাও
শিশু নিখোঁজের সমস্যাকে বাংলাদেশের বৃহত্তর শিশু সুরক্ষা পরিস্থিতি থেকে আলাদা করে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না।
ইউনিসেফের ২০২৪ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩৪ লাখের বেশি শিশু অভিভাবকের সরাসরি যত্নের বাইরে রাস্তায় বসবাস বা কাজের পরিস্থিতিতে রয়েছে। গবেষণাটিতে দেশের সব জেলা থেকে ৪০০-র বেশি শিশুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। এসব শিশুর পরিবার, পথের দালাল, সরকারি-বেসরকারি সেবাদাতা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে।
অভিভাবকের যত্নের বাইরে থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে শোষণ, সহিংসতা, পাচার ও অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। ফলে নিখোঁজ শিশুর বিষয়টি শুধু থানায় একটি জিডি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
অজ্ঞাত মরদেহের সঙ্গে নিখোঁজ শিশুদের তথ্য মেলানো নিয়ে প্রশ্ন
নিখোঁজ শিশুর ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অজ্ঞাত মরদেহ শনাক্তকরণ।
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। কোনো নিখোঁজ শিশুর পরিণতি যদি মারাত্মক অপরাধ বা দুর্ঘটনায় ঘটে, তাহলে পরিচয় শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিবার তার সন্ধান পেতে পারে না।
জাতীয় পর্যায়ে নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্যের সঙ্গে অজ্ঞাত মরদেহের তথ্য, আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ তথ্য কার্যকরভাবে মিলিয়ে দেখার ব্যবস্থা থাকলে এমন অনেক ঘটনার সমাধান সহজ হতে পারে। বাংলাদেশে ফরেনসিক ডিএনএ ব্যবস্থাও রয়েছে এবং নিখোঁজ শিশু কিংবা অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ বিশ্লেষণ ব্যবহার করা সম্ভব।
তবে এ ধরনের তথ্য ব্যবস্থার কার্যকর সমন্বয় কতটা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
শিশু সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা আছে?
বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষার জন্য আইনি কাঠামো রয়েছে। ২০১৩ সালের শিশু আইন শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় শিশুবান্ধব ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করেছে। আইনে শিশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা, শোষণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মানবপাচার প্রতিরোধেও বাংলাদেশে আইন রয়েছে। ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ, গোপন বা আটক করে রাখাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ২০২৬ সালে নতুন ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ’ জারি করে আগের আইনটি রহিত করা হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশে পাচারের শিকার শিশু ও শিশু সাক্ষীদের অধিকার এবং সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, পাচারের শিকার শিশুদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে শিশুর সর্বোত্তম কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুবান্ধব কর্মকর্তা ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কাজ করার বিধান রাখা হয়েছে।
১০৯৮: শিশু সহায়তার সরকারি ব্যবস্থা
শিশু সুরক্ষার জন্য সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত এই হেল্পলাইনে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে শিশু নিজে অথবা অন্য কেউ বিনামূল্যে ফোন করে সহায়তা চাইতে পারেন। সহিংসতা, নির্যাতন ও শোষণের শিকার শিশুর জন্য এই সেবা চালু রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এ মোট ২২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৮৭টি কল গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত ৫৪ হাজার ১২২টি ঘটনায় সেবা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৩২টি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সেবার জন্য যোগাযোগ বা সংযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ১০৯৮-এর মাধ্যমে ১১ হাজার ২১৩ জন গৃহহীন, সহায়-সম্বলহীন বা হারিয়ে যাওয়া শিশুকে নিরাপদ আবাস কিংবা পরিবারের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
অনলাইনেও জিডির সুযোগ রয়েছে
বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন জিডি ব্যবস্থার মাধ্যমেও অভিযোগ করা যায়। পুলিশের ওয়েবসাইটে হারানো ও পাওয়া-সংক্রান্ত বিষয়সহ বিভিন্ন অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযোগের ধরন, জেলা, থানা, ঘটনার সময় ও স্থান এবং বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আবেদন করা যায়। আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট থানা অভিযোগের ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।
তবে শিশু নিখোঁজের মতো ঘটনায় শুধু জিডি গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়; দ্রুত অনুসন্ধান, তথ্য বিনিময় এবং উদ্ধার-পরবর্তী পুনর্বাসনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কেন জাতীয় তথ্যভান্ডার জরুরি?
১৫ হাজার ৭১৭টি জিডির তথ্য নতুন করে যে প্রশ্ন সামনে এনেছে, সেটি মূলত একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের প্রয়োজনীয়তা।
একটি কার্যকর জাতীয় তথ্যব্যবস্থায় অন্তত প্রতিটি নিখোঁজ শিশুর জিডি, ছবি, বয়স, ঠিকানা, নিখোঁজের স্থান ও সময়, পরিবারের যোগাযোগের তথ্য, উদ্ধার বা ফিরে আসার তারিখ, উদ্ধারস্থল, অপরাধের সংশ্লিষ্টতা, পাচারের সন্দেহ, অজ্ঞাত মরদেহের সঙ্গে সম্ভাব্য মিল এবং তদন্তের বর্তমান অবস্থা সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
এতে একই শিশুর জন্য একাধিক জিডি বা বিভিন্ন থানায় আলাদা তথ্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে নিখোঁজ শিশুর তথ্যের সঙ্গে অজ্ঞাত মরদেহ বা অন্য কোনো উদ্ধার হওয়া শিশুর তথ্য দ্রুত মিলিয়ে দেখা সম্ভব হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একটি জিডি ‘ফিরে এসেছে’ নাকি ‘এখনো নিখোঁজ’, তার পরিষ্কার ফলাফলও জাতীয়ভাবে জানা যাবে।
এখনো মেলেনি সব প্রশ্নের উত্তর
সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি নিঃসন্দেহে বড় একটি সংখ্যা। কিন্তু এটিকে ১৫ হাজার ৭১৭ স্থায়ীভাবে নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা বলা তথ্যগতভাবে সঠিক হবে না। সরকারের নিজের বক্তব্যেই বলা হয়েছে, এসব জিডির একটি বড় অংশের শিশু পরে ফিরে এসেছে এবং কতজন আর ফেরেনি তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরকারের হাতে নেই।
তাই বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত শুধু ‘১৫ হাজার ৭১৭’ নয়; বরং এই জিডিগুলোর পরিণতি কী হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর বের করা।
কত শিশু পরিবারের কাছে ফিরেছে, কতজন এখনো নিখোঁজ, কতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, কতটি ঘটনায় অপহরণ বা পাচারের প্রমাণ মিলেছে এবং কতটি ঘটনায় কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি—এসব তথ্য এক জায়গায় না এলে বাংলাদেশে শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে না।
সরকার বলছে, ঘটনাটি নতুন কোনো সংকট নয় এবং প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে তৎপরতা রয়েছে। অন্যদিকে শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, সহিংসতা, শোষণ, পাচার, অনলাইন ঝুঁকি ও অভিভাবকের যত্নের বাইরে থাকা—সব মিলিয়ে শিশুদের নিরাপত্তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।