
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো ব্যক্তি দণ্ডিত হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তী সময়ে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, আইনের প্রয়োগ সবার ক্ষেত্রে একই। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোন কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে আপিল করার সুযোগ থাকে না।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিলের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের বিধান
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। কিন্তু যে কারণেই হোক, তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলেন এবং আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করেননি।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় এ বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা রয়েছে। ওই বিধান অনুযায়ী, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরে তা আর গ্রহণযোগ্য হয় না।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য নয়; সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর। কেউ পলাতক থাকুন বা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল করতে হবে।
ফলে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যে বিধান প্রযোজ্য, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।
আমিনুল ইসলাম জানান, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই শুনানির সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধানগুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘এছাড়া মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিলটি এখনও গ্রহণই করেননি আপিল বিভাগ। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে এখন কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই। আমার মনে হয় আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তারা আর নেননি।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।
তিনি বলেন, ‘অতএব ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পরিপ্রক্ষিতে যদি ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প আছে বলে আমার কাছে মনে হয় না।’
তবে সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে বলেও উল্লেখ করেন আমিনুল ইসলাম। তার ভাষ্য, সাজা স্থগিত করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে এবং এটি সরকারের একটি ‘ইনহেরেন্ট পাওয়ার’ তথা অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা।
তিনি বলেন, সরকার চাইলে যে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে নাও করতে পারে। বিষয়টি সরকারের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।