
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের শুনানি হাইকোর্টের কার্যতালিকায় উঠেছে।
বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের সোমবারের (৭ সেপ্টেম্বর) কার্যতালিকায় রিটটি ৬০ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।
গত বছরের ১২ মে জারি হয় প্রজ্ঞাপন
গত বছরের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়।
এ ছাড়া মিছিল, সভা-সমাবেশ ও সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার কথা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
ওই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে মো. আল আমিন নামের এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট করেন। রিট আবেদনে আবেদনকারীর ঠিকানা মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটে ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটের প্রার্থনায় আরও বলা হয়েছে, রুল জারি হওয়ার পর বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ১২ মে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হোক।
সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রিটটি ৬০ নম্বর ক্রমিকে থাকায় প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে করা আবেদনটি আদালতের বিবেচনায় আসার কথা রয়েছে।