
সন্ত্রাস দমনে সরকার ক্রসফায়ারের পথ বেছে নেবে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মানবাধিকার নিশ্চিত করে প্রয়োজনে প্রচলিত আইন আরও কঠোর ও কার্যকর করে সন্ত্রাস দমন করা হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খুলনার জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল এমপি, আমির এজাজ খান এমপি, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের বয়স এখন ছয় মাস। রাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা দূর করতে সরকারকে কিছুটা সময় দিতে হবে। রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে পচন ধরেছে, তা সারিয়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে।
মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসাদুজ্জামান বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে মাদক ঢোকানো হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে বসে ইয়াবা চোরাকারবারিরা পরিকল্পনা করছে এবং ড্রোনের মাধ্যমেও বিভিন্ন স্থানে মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাদক এখন শুধু খুলনার সমস্যা নয়, এটি সারা দেশের সমস্যা। এ কারণে দেশজুড়ে ডোপ টেস্টের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি সরকারের গুরুত্ব রয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
খুলনার রূপসা ঘাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে মানুষের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। এই অনিয়ম বন্ধে জেলা প্রশাসনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরামর্শ দেন তিনি।
এর আগে সোমবার সকালে জেলা জজ আদালত মিলনায়তনে খুলনার বিচারকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।